ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষসম্মেলনে মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ১৬ মাস পরে তাঁদের দেখা হল। তাঁদের দু’জনের করমর্দন ও সৌজন্য বিনিময়ের ছবি দেখা গেল মঙ্গলবার। কিন্তু দেখা গেল না অতীতের মতো উষ্ণ আলিঙ্গন।
সূত্রের খবর, শীর্ষসম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পার্শ্ববৈঠক হতে পারে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মোদী-ট্রাম্প পার্শবৈঠকে বাণিজ্যচুক্তি, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের পরে এই প্রথম বার মুখোমুখি হলেন মোদী ও ট্রাম্প। মধ্যবর্তী পর্যায়ে অপারেশন সিঁদুর-পরবর্তী ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা, মার্কিন শুল্কনীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির খসড়ার মতো বিষয় নিয়ে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন ভিন্নমত প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতি’ বলেছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি ওমানে উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও কূটনীতিতে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে ইরান যুদ্ধ, হরমুজ় অবরোধের পরিস্থিতি সামগ্রিক ভাবে নতুন করে সহযোগিতার আবহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মঙ্গলবার ৫২তম জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চেও পাশাপাশি বসেছিলেন মোদী এবং ট্রাম্প। ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গেও মঙ্গলবার সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে মোদীকে। শীর্ষসম্মেলনে আগত রাষ্ট্রনেতাদের ফোটোসেশনের সময় আবার মোদীর পাশে ছিলেন আয়োজক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে ফ্রান্সে তিন দিনের জি-৭ শীর্ষসম্মেলন শুরু হয়েছে। ভারত জি-৭-এর স্থায়ী সদস্য না হলেও, বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসাবে ধারাবাহিক ভাবে এই সম্মেলনে যোগ দেয়।