প্রশ্নফাঁস ও গুজব রুখতে ‘নিট’ পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র অনুরোধে ভারত সরকার টেলিগ্রাম অ্যাপের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ২২ জুন পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মটি ব্লক করার কথা ঘোষণাও করা হয়েছে। কিন্তু ‘ইন্ডিয়া টুডে’তে প্রকাশিত খবরে দাবি, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতে এখনও পর্যন্ত সক্রিয় রয়েছে টেলিগ্রাম।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় মঙ্গলবার দুপুরে ‘ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম’ টেলিগ্রাম-কে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞার কয়েক ঘণ্টা পরেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ করছে বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়ে। এই ঘটনা টেলিগ্রাম-কে ব্লক করার ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনাচক্রে ওই অ্যাপে সেন্সরশিপ ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য কিছু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা রয়েছে বলে আগেই জানা গিয়েছিল। এই ঘটনা তারই ইঙ্গিতবাহী বলে অনেকে মনে করছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি অ্যাপটি ‘গুগল প্লে স্টোর’ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, এবং সম্ভবত দ্রুত ‘আইওএস প্লে স্টোর’ থেকেও সরানো হবে। তবে এতে খুব বেশি পার্থক্য হবে না, কারণ টেলিগ্রাম এখনও ওয়েবে থাকা বহু বিভিন্ন অ্যাপ স্টোর এবং এপিকে ফাইলের মাধ্যমে সক্রিয় এবং অ্যাক্সেসযোগ্য। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার টেলিগ্রামকে নির্দেশ দিয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য ‘এডিট মেসেজ’ ফিচারটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় রাখতে হবে ৷ কিন্তু সেটিই কার্যকর করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। টেলিগ্রাম-কর্তা পাভেল দুরভ মঙ্গলবার নয়াদিল্লি সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ভারত সরকার আমাদের অ্যাপ ব্যবহারকারী ১৫ কোটি ভারতবাসীকে শাস্তি দিয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগই প্রথম নয়, এর আগে টেলিগ্রাম অ্যাপের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে টাকা তোলা এবং ওই অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়া খেলা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে ৷ ২০২৪ সালের অগস্টে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সে বছরই বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে লে বর্গেট বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল টেলিগ্রাম-কর্তা দুরভকে। পরে ফ্রান্সের আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। ভারতে এই অ্যাপটির ৫০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। জনপ্রিয়তার নিরিখে হোয়াট্সঅ্যাপের পরেই রয়েছে এই মেসেজ পাঠানোর অ্যাপ। ব্যবহারকারীরা এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কারণে এটিকে পছন্দ করেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ‘ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বিষয়ক প্রযুক্তি’। যে প্রযুক্তি মঙ্গলবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে সরকারি সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থাকেই!