Advertisement
WBState_Assembly_Elections_Lead0_02-05-26

নবান্ন অভিযান

আবার অশান্ত ফলতা! দফায় দফায় উত্তেজনা, পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেন গ্রামবাসীদের একাংশ, রিপোর্ট তলব কমিশনের

শুক্রবার থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ফলতায়। শনিবারও একই দাবিতে পথে গ্রামবাসীদের একাংশ। ফলতার এই অশান্তি এবং এবং বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কারণে মারধরের ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৫:৪০
Fresh tension erupts in Falta, demands arise for re-election

ফলতার হাশিমনগরে শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। দাবি ওঠে পুনর্নির্বাচনের। —নিজস্ব চিত্র।

ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিম, দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে শনিবার পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু সেই তালিকায় নেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। শনিবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, বিজেপিতে ভোট দেওয়ার কারণে বাড়ি এসে এসে হুমকি দিচ্ছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের।

গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল সর্দারের নেতৃত্বে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেই অভিযোগ তুলে শনিবার ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করতে হবে। আর ফলতায় পুনর্নির্বাচন করাতে হবে কমিশনকে। অনেকে আবার জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। ফলতার এই অশান্তি এবং বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কারণে মারধরের ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ফলতায়। বিজেপি কর্মীদের উপর মারধরের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ফলতার হাশিমনগর। শনিবারও ওই একই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হাশিমনগর এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ তথা বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তার প্রতিবাদ করায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে কিছু লোকজন হামলা চালিয়েছেন। বিজেপির কর্মী এবং সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। শুক্রবারও জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিল তাঁরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যায়। তবে শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমরা ইসরাফিলের গ্রেফতারি চাই। কিন্তু রাজ্য পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। আমরা চাই ওকে গ্রেফতার করা হোক। আর চাই ফলতায় দু’টি বুথ আছে, যেখানে পুনর্নির্বাচন করা হোক।’’ বিক্ষোভকারীদের দাবি, ‘‘ফলতায় পুনর্নির্বাচন চাই।’’ কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ আধিকারিক জানান, কোনও লাঠিচার্জ হয়নি।

দ্বিতীয় দফা ভোটের শুরু থেকেই উত্তপ্ত ফলতা। পুলিশ পর্যবেক্ষক বনাম তৃণমূল প্রার্থীর ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ দেখা গিয়েছে সেখানে। তবে ভোটের দিনেও দিনভর খবরের শিরোনামে ছিল ফলতা। ওই কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে। শুধু ওই দুই বুথ নয়, আরও কয়েকটি বুথ থেকেও নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। বিরোধীরা ফলতার ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন। তবে ওই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মতো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দিল্লিতে প্রস্তাব পাঠান বিশেষ পর্যবেক্ষক। সূত্রের খবর, তিনি ফলতার ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করার কথা জানিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন কমিশনকে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি কমিশনের তরফে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
৪৩ মিনিট আগে
Falta Re-Poll
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy