ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিম, দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে শনিবার পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু সেই তালিকায় নেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। শনিবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, বিজেপিতে ভোট দেওয়ার কারণে বাড়ি এসে এসে হুমকি দিচ্ছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের।
গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, ‘জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ’ এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল সর্দারের নেতৃত্বে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেই অভিযোগ তুলে শনিবার ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ‘জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ’ ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করতে হবে। আর ফলতায় পুনর্নির্বাচন করাতে হবে কমিশনকে। অনেকে আবার জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। ফলতার এই অশান্তি এবং বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কারণে মারধরের ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ফলতায়। বিজেপি কর্মীদের উপর মারধরের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ফলতার হাশিমনগর। শনিবারও ওই একই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হাশিমনগর এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ তথা বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তার প্রতিবাদ করায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে কিছু লোকজন হামলা চালিয়েছেন। বিজেপির কর্মী এবং সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। শুক্রবারও জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিল তাঁরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যায়। তবে শনিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমরা ইসরাফিলের গ্রেফতারি চাই। কিন্তু রাজ্য পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। আমরা চাই ওকে গ্রেফতার করা হোক। আর চাই ফলতায় দু’টি বুথ আছে, যেখানে পুনর্নির্বাচন করা হোক।’’ বিক্ষোভকারীদের দাবি, ‘‘ফলতায় পুনর্নির্বাচন চাই।’’ কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ আধিকারিক জানান, কোনও লাঠিচার্জ হয়নি।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় দফা ভোটের শুরু থেকেই উত্তপ্ত ফলতা। পুলিশ পর্যবেক্ষক বনাম তৃণমূল প্রার্থীর ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ দেখা গিয়েছে সেখানে। তবে ভোটের দিনেও দিনভর খবরের শিরোনামে ছিল ফলতা। ওই কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে। শুধু ওই দুই বুথ নয়, আরও কয়েকটি বুথ থেকেও নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। বিরোধীরা ফলতার ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন। তবে ওই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মতো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দিল্লিতে প্রস্তাব পাঠান বিশেষ পর্যবেক্ষক। সূত্রের খবর, তিনি ফলতার ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করার কথা জানিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন কমিশনকে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি কমিশনের তরফে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত