Advertisement

নবান্ন অভিযান

ইভিএম ‘পাহারায়’ তৎপরতা বিজেপিরও! রবিবার রাজ্যে সব স্ট্রংরুমের সামনে পদ্মশিবিরের মহিলা কর্মীরা বসছেন অবস্থানে

রবিবার থেকে সব স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসবেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা। পরের দিন, সোমবার সকালে দলের কাউন্টিং এজেন্ট এবং প্রার্থীরা গণনাকেন্দ্রে পৌঁছোনোর আগে পর্যন্ত স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দেবেন তাঁরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৯:২১
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।

ভোটগণনার আগে এ বার ইভিএম ‘পাহারা’ দিতে বসছে বিজেপিও। রাজ্যের সর্বত্র স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তৎপর হচ্ছে তারা। রবিবার সকাল থেকে রাজ্যের সব স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থানে বসছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকে স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে যে উত্তাপ দেখা গিয়েছে, তাতে বিজেপির এই কৌশল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

জানা যাচ্ছে, রাজ্যের সর্বত্রই বিজেপির তরফে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গণনা শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রতিটি স্ট্রংরুমের ‘সুরক্ষা’ নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির মহিলা কর্মীদের। রবিবার থেকে সব স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসবেন তাঁরা। পরের দিন, সোমবার সকালে দলের কাউন্টিং এজেন্ট এবং প্রার্থীরা গণনাকেন্দ্রে পৌঁছোনোর আগে পর্যন্ত স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দেবেন এই মহিলা কর্মীরাই।

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপানউতর শুরু হয়েছে। যার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কলকাতার দুই স্ট্রংরুম— ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। সেই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা। অন্য দিকে, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন ভবানীপুরের স্ট্রংরুম রয়েছে সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে। মমতা নিজে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ‘পাহারা’ দেন স্ট্রংরুম। ওই সময়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসও ছিলেন স্ট্রংরুমের পাল্টা ‘পাহারায়’।

তার পরেও স্ট্রংরুম ঘিরে শাসক এবং বিরোধীশিবিরের মধ্যে চাপানউতর চলছেই। শনিবারও উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে স্ট্রংরুম ঘিরে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে উত্তাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সিসিটিভির ডিসপ্লে মনিটর কিছু ক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়, সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল না। ডিসপ্লে মনিটরটি কোনও কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পর পর এই ঘটনাগুলির মাঝে এ বার রাজ্য জুড়ে সর্বত্র স্ট্রংরুম পাহারা দিতে বসছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা। গণনার আগের দিন, রবিবার বিজেপির সব প্রার্থী নিজ নিজ বিধানসভা এলাকায় মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন। বিজেপির সাংসদেরাও নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন রবিবার।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
BJP West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy