শিশু এবং মহিলাদের মেরেছিলেন! কালীঘাটের নিলম্বিত (সাসপেন্ড হওয়া) ওসি গৌতম দাসকে নিয়ে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই বলেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে তিনি পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দেন। জানান, ৪ মে-র পরে উত্তরপ্রদেশে বা ভিন্রাজ্যে পালিয়ে পার পাবেন না পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা। সকলকে আদালতে টেনে আনা হবে।
শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে প্রায় দে়ড় ঘণ্টা ধরে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মমতা এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই কালীঘাটের নিলম্বিত ওসি-কে নিয়ে মন্তব্য করেন মমতা। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা জানান, মহিলা এবং শিশুদের মেরেছিলেন কালীঘাটের ওসি। শনিবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তার পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা ভাবছেন, ৪ মে-র পরে উত্তরপ্রদেশ বা যে রাজ্য থেকে এসেছিলেন, সেখানে পালিয়ে যাবেন! তাঁদের প্রত্যেককে আদালতে টেনে আনা হবে অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য। দলীয় সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেও গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয়েছিল গৌতমকে। শনিবার তাঁকে নিলম্বিত করে লালবাজার। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি স্টেটাস দিয়ে বিতর্কে জড়ান গৌতম। শুক্রবার রাতে ওই ছবিকে ‘আপত্তিকর’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তৃণমূল। লালবাজার সূত্রে খবর, ওই বন্দুককাণ্ডের জেরেই গৌতমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় যে, একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে থানায় নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম। তার পরনে পুলিশের উর্দি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। গৌতম নিজেই ফেসবুক এবং হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাসে সেই ছবি পোস্ট করেন বলেও দাবি করে তৃণমূল। শুক্রবার তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ওই ছবিটি পোস্ট করেন। তিনি জানান, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখে অবগত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
-
‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার যাঁরা সয়েছেন, তাঁরা পুরস্কৃত হবেন’! বড় জয় নিয়ে প্রত্যয়ী মমতা ও অভিষেকের বার্তা দলীয় বৈঠকে
-
কালীঘাটের ওসি গৌতম দাস সাসপেন্ড, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছবি, শুক্র রাতে নালিশ করেছিল তৃণমূল
-
সোমবারের ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি! তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত
তার পরেই গৌতমকে নিয়ে বৈঠকে মমতা মন্তব্য করেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। ভিন্রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, তাঁর নিশানায় রয়েছেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ দেখা গিয়েছিল ফলতায়। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ওই এলাকা উত্তপ্তও হয়। সেখানে পুনর্নির্বাচনের দাবিও ওঠে। কমিশন অজয়পালের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। প্রসঙ্গত, ফলতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
তৃণমূল সূত্রে খবর, শনিবারের বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী মমতা এবং অভিষেক বার্তা দিয়ে জানান, ২০০-র উপরে আসনে জিততে চলেছে তৃণমূল! তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে দলের কর্মীদের উদ্দেশে মমতা-অভিষেক জানান, শেয়ার মার্কেটকে চাঙ্গা করতেই বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁরা এ-ও জানান যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও একই পন্থা নেওয়া হয়েছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৬:৫২
‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার যাঁরা সয়েছেন, তাঁরা পুরস্কৃত হবেন’! বড় জয় নিয়ে প্রত্যয়ী মমতা ও অভিষেকের বার্তা দলীয় বৈঠকে -
১৫:৪০
আবার অশান্ত ফলতা! দফায় দফায় উত্তেজনা, পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেন গ্রামবাসীদের একাংশ, রিপোর্ট তলব কমিশনের -
১০:৩১
নিজেদের বিজ্ঞপ্তি মেনে কাজ করবে কমিশন! প্রয়োজন নেই অতিরিক্ত নির্দেশের, তৃণমূলের মামলায় বলে দিল সুপ্রিম কোর্ট -
০৫:০১
বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ল প্রায় ৮৭ শতাংশ! ১৫টি বুথের পুনর্নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণই -
০১:১২
হাতে অত্যাধুনিক বন্দুক, পরনে উর্দি! কালীঘাট থানার ওসির হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাস নিয়ে কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি তৃণমূলের