২০০-র উপরে আসনে জিততে চলেছে তৃণমূল! কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বার্তাই দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূলের সব কাউন্টিং এজেন্ট। তা ছাড়াও এই বৈঠকে রয়েছেন দলের সমস্ত প্রার্থী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে দলের কর্মীদের উদ্দেশে মমতা-অভিষেক জানান, শেয়ার মার্কেটকে চাঙ্গা করতেই বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁরা এ-ও জানান যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও একই পন্থা নেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল সূত্রে খবর, বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন অভিষেকও। জানান, বিজেপিও সরকার গঠনের আশা করছে না। তিনি এ-ও জানান যে, ভুয়ো সমীক্ষা দেখিয়ে বিজেপি কী ভাবে আর্থিক জালিয়াতি করেছে, তা তুলে ধরেছেন মমতা। দলের সম্ভাব্য ফলের ভবিষ্যদ্বাণী করে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ দাবি করেন, ২০২১-এর চেয়েও এ বারের নির্বাচনে বেশি আসন পাবে দল।
তৃণমূলের ওই সূত্রের দাবি, বৈঠকের শুরুতেই ‘আপসহীন লড়াইয়ের’ জন্য দলের কর্মীদের অভিনন্দন জানান মমতা। দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়েও ফের সরব হন তিনি। আশ্বাস দেন যে, যাঁরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ সহ্য করেছেন, দল তাঁদের পুরস্কৃত করবে। প্রায় একই সুরে অভিষেক অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখাতে চেয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলা ও শিশুদের মারধর এবং হেনস্থা করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তৃণমূল সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে যে, ভোটগণনা নিয়ে কাউন্টিং এজেন্টদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা-অভিষেক। গণনাকেন্দ্রের প্রতিটি মুহূর্তের খবর দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। কোনও কেন্দ্রে খুব অল্প ব্যবধানে বিজেপি এগিয়ে থাকলে পুনর্গণনার আর্জি জানাতে বলা হয়েছে। সোমবার, গণনার দিন এজেন্টদের ভোরবেলা গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে বলা হয়েছে। গণনা শেষ হওয়া না-পর্যন্ত বাইরে না-বেরোনোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের এ-ও নির্দেশ যে, দলবদ্ধ ভাবে গণনাকেন্দ্রে যেতে হবে। বিজয়ী প্রার্থী শংসাপত্র পাওয়ার পর দলবদ্ধ ভাবেই বেরোতে হবে এজেন্টদের। গণনাপ্রক্রিয়ার উপর নজর রাখতে জেলাওয়াড়ি পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করেছে তৃণমূল।
বৈঠকে অভিষেক নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। তাঁর দাবি, বিজেপিই নির্বাচন কমিশন হিসাবে কাজ করেছে। আর স্থানীয় স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। সব ধরনের শক্তিকে ব্যবহার করার পরেও বিজেপি হারবে বলে দাবি করেন অভিষেক। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি জানান, কমিশন নিযুক্ত যে পর্ববেক্ষকেরা ‘অসাংবিধানিক’ কাজ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ করবে তৃণমূল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৭:২৪
জাহাঙ্গিরের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কমিশনের! না-হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি -
১৭:২০
ভোটগণনায় অতিরিক্ত ১৬৫ জন গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৭৭ পুলিশ পর্যবেক্ষক -
১৫:৪০
আবার অশান্ত ফলতা! দফায় দফায় উত্তেজনা, পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেন গ্রামবাসীদের একাংশ, রিপোর্ট তলব কমিশনের -
১০:৩১
নিজেদের বিজ্ঞপ্তি মেনে কাজ করবে কমিশন! প্রয়োজন নেই অতিরিক্ত নির্দেশের, তৃণমূলের মামলায় বলে দিল সুপ্রিম কোর্ট -
সরাসরি
০৫:০১
বিকেল ৩টে পর্যন্ত ৭২ শতাংশ ভোট পড়ল, মগরাহাটে সাময়িক উত্তেজনা, তবে পুনর্নির্বাচন শান্তিপূর্ণই