নির্বাচনে জয় নিয়ে প্রত্যয়ী বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে দলীয় কর্মীদেরও বার্তা দিয়ে রাখলেন, কেউ যেন হিংসায় না জড়ান। সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতর থেকে শমীক জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোট-সংস্কৃতির পরিবর্তন চান। অতীতে যেমন ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠে এসেছিল, তার পুনরাবৃত্তি চাইছেন না তিনি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সেই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শমীক।
সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের (ফলতায় নতুন করে ভোট হবে, তার পরে সেই আসনের গণনা হবে) ভোটগণনা রয়েছে। গণনা শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক আভাসও আসতে শুরু করে দেবে বিভিন্ন আসন থেকে। এ অবস্থায় গণনার আগের দিন, রবিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দলের সকল স্তরের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে রাখলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শমীক বলেন, “জয়ের পরে বিজেপি কর্মীরা যেন হিংসার আশ্রয় না নেন। বিভিন্ন জায়গায় মরিয়া হয়ে একটা রাজনৈতিক দল কিছু অবাঞ্ছিত লোকজনকে জড়ো করছে। কিন্তু এ বার সেই সব করে গণনায় গন্ডগোল করা যাবে না।”
পশ্চিমবঙ্গে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অশান্তির অভিযোগ ছড়িয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তাতে বিজেপির বিভিন্ন কর্মী-সমর্থকও আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই সময়ের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন শমীক। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শমীক বলেন, “২৭ দিনে আমাদের ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিলেন। ২৭ জন মহিলা ক্যামেরার সামনে এসে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।”
তবে এ বারের দু’দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে। এ অবস্থায় রাজ্যে ভোট-সংস্কৃতির পরিবর্তনের ডাক দিলেন শমীক। হিংসার পুনরাবৃত্তিতে প্রতিহিংসা না করার বার্তা দেন তিনি বিজেপি কর্মীদের। শমীক বলেন, “এর আগের নির্বাচনগুলির পরে বিজেপি কর্মীরা যে অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন, এ বার যেন বিজেপি কর্মীরা তার পাল্টা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা না করেন। আমরা যে অত্যাচারের শিকার হয়েছি, আমাদের কর্মীদের পরিবারগুলি যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, আমরা চাই না অন্যদের এখন সেই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হোক।”
আরও পড়ুন:
এ বারের মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা মনে করিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একটা ভিন্ন নির্বাচনের স্বাদ পেয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে এই জয় সংসদীয় গণতন্ত্রের জয়, সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতার জয়।” সোমবারের ভোট গণনা পর্বে বিজেপির জয়ের বিষয়ে সংশয়ের কোনও জায়গা নেই বলেই দাবি শমীকের। তবে জয়ের পরে বিজেপি কর্মীরা যাতে কোনও ভাবেই হিংসা বা অশান্তিতে জড়িয়ে না-পড়েন, যাতে তাঁরা কোনও ভাবেই হিংসার আশ্রয় না-নেন, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত