আপস-বদলি চালু করার দাবিতে স্মারকলিপি দিল অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েশন। রাজ্যের উৎসশ্রী পোর্টাল বন্ধ বেশ কয়েকবছর। ফলে সরকারপোষিত স্কুলে শিক্ষকদের বদলিও হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আপস-বদলির আবেদন নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্তও সেগুলিকে কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ। এই মর্মে বুধবার স্কুলশিক্ষা দফতরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, আপোস বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনও প্রভাব পড়ে না। ফলে দফতর সেই বিষয় নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতেই পারে।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, পোর্টালের মাধ্যমে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা গ্রাম থেকে শহরে চলে এসেছেন। তার পরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে ২০১৬ সালের শিক্ষকদের প্যানেল বাতিল হওয়ার ফলেও শিক্ষকের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সর্বত্র শিক্ষক-শিক্ষিকার সমবণ্টন নেই বলেও দাবি দফতরের। খাস কলকাতাতেও এমন স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়ার থেকে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। কোনও স্কুলে আবার ৩৫০ পড়ুয়ার জন্য ৩০ জনের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। অথচ গ্রামের দিকে দেখা যায় যে, আড়াই হাজার পড়ুয়ার জন্যও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ফলে শহর থেকে গ্রামে শিক্ষকদের পাঠানো যায় কি না, সেই প্রক্রিয়া নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে উদ্বৃত্ত শিক্ষকের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে দফতর। শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ করছে। যার মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকার বদলি এবং সমবণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন শিক্ষা দফতরের কর্তারা। তবে এ দিন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই জানান, আপস-বদলির ক্ষেত্রে পঠনপাঠনে কোনও প্রভাব পড়ে না। ফলে সে ক্ষেত্রে স্কুলশিক্ষা দফতরের উচিত সেই আবেদনগুলিকে মঞ্জুর করা।
শহরের বেসরকারি স্কুলের সঙ্গে নানা প্রতিযোগিতায় সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের একটা বড় অংশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মানছেন শিক্ষকমহলের একাংশ। স্কুলশিক্ষা দফতরের সূত্রে খবর, এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নানা পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। তবে শহরতলি বা গ্রামের দিকের একটা বড় অংশের অভিভাবকদের কাছে এখনও ভরসার স্থল এই সব স্কুলগুলিই। সম্প্রতি বিকাশ ভবনে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে স্কুলশিক্ষা দফতরের কর্তাদের এক বৈঠকে উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গও। গ্রাম থেকে যে সব শিক্ষকেরা শহরে এসে গিয়েছেন, তাঁদের ফেরানো যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও খবর।