রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ তুললেন এক যুবক। অভিযোগ, পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মানসের মধ্যস্থতাতেই তাঁর স্ত্রী চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু দু’মাসের মধ্যে সেই চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। টাকা এবং স্ত্রীর চাকরি দুই-ই হারিয়ে যুবক পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। সবং থানায় তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। মানস অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সবংয়ের সাত বারের বিধায়ক মানস। এ বারের ভোটে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীর কাছে। ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই বেসুরো হয়েছিলেন তিনি। গত ১৩ জুন তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগটি দায়ের হয়েছে তার আগেই। গত ১০ জুন সবং বিধানসভা এলাকার বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা এক যুবক ওই অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর স্ত্রীকে তেমাথানী ইরিগেশন বাংলোতে সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনে চাকরি দেওয়া হয়। এই চাকরি হয়েছিল মানসের মধ্যস্থতায়। তার বিনিময়ে শেখ আবু কালান বক্স এবং ভোলানাথ দে-কে পাঁচ লক্ষ টাকা দেন যুবক। ১ মার্চ তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগ দেন। মার্চ মাসের বেতন বাবদ পেয়েছিলেন ১০৭৪৭ টাকা।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, ৬ মে ওই মহিলাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁর চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। হোয়াট্সঅ্যাপে চাকরি বাতিলের নির্দেশের কপিও পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যুবক তাঁর অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, চাকরি চলে যাওয়ায় তাঁর স্ত্রী মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। পরিবারকেও নানা হেনস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাঁকে ফের চাকরিতে বহালের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন যুবক।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তবে মানস নিজে অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘আমি এমন কোনও কাজ করিনি। কেউ মামলা করেছে বলেও আমার জানা নেই।’’
উল্লেখ্য, তৃণমূল ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন মানস। মমতাকে চিঠি লিখে দল ছাড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলে থেকে আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মানস বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলে থেকে আর কাজ করার সুযোগ নেই। তাই আমি তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । তবে রাজনীতি ও সমাজসেবা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । তাই আমি রাজনীতি থেকে দূরে যাব না। তবে কী সিদ্ধান্ত নেব, তা আগামী দিনে আমি সবাইকে জানিয়ে দেব।’’ পাশাপাশি, কিছু দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের এই নেতার মুখে।