E-Paper

শিবিরে চালু ভাতার কাউন্টার, ভিড় টানছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’

সোমবার জনকল্যাণ শিবিরের প্রথম দিনে বার্ধক্য ভাতা-সহ বিভিন্ন ভাতার কোনও কাউন্টার না থাকায় ফিরে যেতে হয় অনেককেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ০৯:৩৯
মেদিনীপুর সদর ব্লক অফিসে জনকল্যাণ শিবিরে ভিড়।

মেদিনীপুর সদর ব্লক অফিসে জনকল্যাণ শিবিরে ভিড়। নিজস্ব চিত্র।

ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর: প্রথম দিনে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, মানবিক ভাতার কাজ হচ্ছিল না জনকল্যাণ শিবিরে। সেই জট কাটল দ্বিতীয় দিনে। মঙ্গলবার থেকে শিবিরে জুড়েছে বার্ধক্য ভাতা, মানবিক ভাতার কাউন্টার। তবে সে ক্ষেত্রে থেকে গেল শংসাপত্রের জটিলতা।

বার্ধক্য ভাতার ফর্মের সঙ্গে যে সব নথি দিতে হবে, তার মধ্যে অন্যতম আয়ের শংসাপত্র। কিন্তু ঝাড়গ্রাম পুরসভার পুর-প্রতিনিধিরা তা দিচ্ছেন না বলেই অভিযোগ। ইতিমধ্যে পাঁচ পুর-প্রতিনিধি ইস্তফা দিয়েছেন। পুরপ্রধানও এক সপ্তাহ ধরে পুরসভায় আসছেন না। ফলে, আয়ের শংসাপত্র পেতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। তবে শিবিরে থাকা কর্মীদের আশ্বাস, ‘‘পরে পুরসভায় ফর্ম জমা দেওয়া যাবে।’’ আর দু’দিনেই শিবিরে ভিড় টানছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প।

সোমবার জনকল্যাণ শিবিরের প্রথম দিনে বার্ধক্য ভাতা-সহ বিভিন্ন ভাতার কোনও কাউন্টার না থাকায় ফিরে যেতে হয় অনেককেই। সরকারি নির্দেশে মঙ্গলার থেকে সেই কাউন্টার চালু হয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহরের শিবিরে বেবি সিংহ শাশুড়িকে নিয়ে এসেছিলেন বার্ধক্য ভাতার জন্য। বেবি বলছেন, ‘‘গত কাল মেয়ের স্কলারশিপের জন্য পুর-প্রতিনিধির কাছে গিয়েছিলাম। উনি বললেন, পুরসভায় যেতে। পুরসভায় গিয়ে জানলাম, পুরপ্রধান না এলে দেওয়া যাবে না। আমরা পড়ছি সমস্যায়।’’

এ দিন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন শিবিরেও ভাতার ফর্ম দেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের তিনটি শিবিরে দ্বিতীয় দিনে ৫,৯৫০ জন এসেছিলেন। এর মধ্যে বার্ধক্য ভাতার ফর্ম নিয়েছেন ১৯৫ জন, বিধবা ভাতার ২৭ জন। শহরের বাসিন্দা কল্যাণী সাহা বলেন, ‘‘সোমবার শিবিরে গিয়ে বার্ধক্য ভাতার ফর্ম পাইনি। বুধবার আবার যাব।’’ এ দিনও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারতে ফর্ম পূরণে আগ্রহ বেশি ছিল। মেদিনীপুরে আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম সংগ্রহ করেছেন ৩,৬৯৪ জন।

ঝাড়গ্রামেও আয়ুষ্মান ভারতের জন্য শিবিরে ভিড় হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, শিবিরে আধার কার্ড দেখিয়ে জানা যাবে, আয়ুষ্মান ভারতে প্রাথমিক ভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা। যাঁদের এওয়াইওয়া‌ই, এসপিএইচএইচ, পিএইচএইচ রেশন কার্ড রয়েছে, তাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে। আশাকর্মীরা তাঁদের বাড়ি গিয়ে ফর্ম দেবেন। কিন্তু আর্থিক ভাবে সম্পন্নদের এওয়াইওয়া‌ই, এসপিএইচএইচ, পিএইচএইচ রেশন কার্ড রয়েছে। আর প্রকৃত গরিবদের রয়েছে আরকেএসওয়াই-১, আরকেএসওয়াই-২ রেশন কার্ড। এঁরা শিবিরে ফর্ম জমা দিতে পারবেন।

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলছেন, ‘‘আশাকর্মীরা যে ফর্ম বিলি করবেন, তা ফেরত এলে তদন্ত করে দেখা হবে। বিগত দিনে অনেকে প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ রেশন কার্ড করিয়ে নিয়েছেন। কারও দোতলা বাড়ি, গাড়ি রয়েছে। তদন্ত করে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।’’

তবে ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা কী করবেন, তা নিয়ে অনেকের ধোঁয়াশা কাটছে না। ঝাড়গ্রাম শহরের দেবেন্দ্রমোহন হলের জনকল্যাণ শিবিরে এ দিন ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য আলাদা লাইন ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ফর্ম জমা নেওয়া হয়েথে। গোপীবল্লভপুর-২ ব্লক প্রশাসনের তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, শিবিরে ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষজনদের ফর্ম জমা নেওয়া হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ayushman Bharat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy