খড়্গপুরে তৃণমূলে ভাঙন। ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন খড়্গপুর সদরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার। মঙ্গলবারই তাঁকে জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বুধবার তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূল তাঁকে যে পদ দিয়েছে, তা গ্রহণ করছেন না। প্রশ্ন উঠছে, এ বার কি তবে বিজেপিতে যোগ দেবেন প্রদীপ? যদিও এখনই সেই নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা দিতে নারাজ তিনি। জল্পনা জিইয়ে রেখে জানালেন, কোন দলে যাব এখনই বলার সময় আসেনি।
খড়্গপুর সদর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন প্রদীপ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। যদিও বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের কাছে হারতে হয় তাঁকে। স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়েই রেখেছিলেন প্রদীপ। তৃণমূলে সে ভাবে সক্রিয় ছিলেন না। ভাঙন পর্বে তৃণমূল সব কমিটি ভেঙে দেয়। নতুন করে আবার সাজানো শুরু করে। সেই আবহেই প্রদীপকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল।
বুধবার তৃণমূল থেকে অব্যাহতি চেয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি দেন প্রদীপ। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ব্যক্তিগত কারণে দল ছাড়ছেন। তবে কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেননি। তাঁর কথায়, ‘‘বর্তমানে আমি সাধারণ নাগরিক। একজন কাউন্সিলর হিসাবেই রইলাম। মানুষের পরিষেবা দিতে থাকব।’’ একটা সময় খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন প্রদীপ।
আরও পড়ুন:
প্রদীপের তৃণমূলের সদস্যপদ ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসতে জেলা রাজনীতি মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তিনি কি বিজেপিতে যাবেন? নাকি প্রতিবাদী তৃণমূল দলে যোগ দেবেন? সেই সব প্রশ্নের উত্তরে প্রদীপের জবাব, পরিবার-আত্মীয়স্বজন-বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন। দল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মুখে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্তূতি। তাঁর কথায়, ‘‘মেদিনীপুর থেকে বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যে উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েছেন তাতে আমি খুশি এবং গর্বিত। মেদিনীপুরের বাসিন্দা হিসাবে গর্ববোধ করছি।’’ খড়্গপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপের কাজের প্রশংসাও করেন প্রদীপ।