আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। ২০০১ সাল থেকে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পুষ্পার দাবি, সরকার এখন যা নীতি নিয়েছে বা আশ্বাস দিচ্ছে, সেই কথা উপর ভরসা করেই সমাজের মূলস্রোতে ফিরেছেন তিনি।
ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির বাসিন্দা পুষ্পা। ২০০১ সালে ‘কালচারাল মাওয়িস্ট’ নামে এক সংগঠনের সদস্য হিসাবে যোগ দেন। সেই থেকে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে। পরে ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমানায় কাজ করতেন তিনি। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন। তবে দীর্ঘ ২৫ বছর পর চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি মাওবাদী কার্যকলাপ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।
বুধবার লালবাজারে এসে আত্মসমর্পণ করেন পুষ্পা। পরে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দের পাশে বসে জানান কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘এখন যে আন্দোলন চলছে, সেই আন্দোলন বেশি দূর এগোবে না। আমি মনে করছি, সরকার যে বলেছে বাসস্থান দেবে, পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করবে, সেই আশা করে আত্মসমর্পণ করলাম।’’
আরও পড়ুন:
গত মাসে ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলা উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা বেলা মাওবাদীদের ঝাড়খণ্ড আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই পাত্র আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এ বার সেই তালিকায় জুড়ল পুষ্পার নাম।