Advertisement
E-Paper

তৃণমূল ভবন থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে আসবাব, মালিক মন্টু এবং মমতার দলের টানাপড়েনে নয়া মোড়, পাকাপাকি তালা পড়ছে?

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ভবনটির এক তলায় মূলত জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য বসার জায়গা ছিল। এক তলায় একটি মিডিয়া সেন্টার ছিল। মঙ্গলবার রাত থেকে ওই দু’টি তলা থেকে চেয়ার-টেবিল, ফ্লেক্স, ব্যাকড্রপ সরানোর কাজ শুরু হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:৪৭
(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রোপলিটন এলাকার অস্থায়ী তৃণমূল ভবন (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রোপলিটন এলাকার অস্থায়ী তৃণমূল ভবন (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার তৃণমূল ভবন খালি করার কাজ শুরু করল মালিকপক্ষ। মঙ্গলবার থেকেই বহুতল ভবনটির একতলা এবং দোতলা থেকে জিনিসপত্র সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে অবশ্য খবর, দলের তরফেই ওই ভবন থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঙ্গলবার রাত থেকেই তৃণমূল ভবনের সামনে কয়েকটি পণ্যবাহী গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। ভোরে মালপত্র নিয়ে গাড়িগুলি বেরিয়ে যায়।

যে ভবনে তৃণমূলের এই প্রধান কার্যালয়টি ছিল, তাঁর মালিক মনোতোষ সাহা, যিনি মন্টু সাহা নামেই পরিচিত। মন্টুর মালিকানাধীন ‘মডার্ন ডেকরেটিং’ ভোটের আগে পর্যন্ত তৃণমূলের সমস্ত কর্মসূচিতে মঞ্চ বাঁধার বরাত পেত। এমনকি ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের প্রশস্ত মঞ্চটিও তৈরি করত মডার্ন ডেকরেটিং। ভোটের ফল বেরোনোর পর অবশ্য মন্টু আর তৃণমূলের সম্পর্কের রসায়ন বদলে যায়। তৃণমূল ভবন ছাড়তে বলেন মন্টু। তিনি দাবি করেন যে, বার বার বলার পরেও ওই ভবন খালি করছে না তৃণমূল।

এই অভিযোগ নিয়েই প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মন্টু। তার পর তৃণমূলের তরফেও থানায় গিয়েছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁরা ভাড়া দেওয়ার রসিদ-সহ অন্যান্য নথি থানায় জমা দেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই ভবন ব্যবহার করার বিষয়ে মন্টুর সঙ্গে দলের ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই ওই বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে বেঁকে বসেন মন্টু।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ভবনটির একতলায় মূলত জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য বসার জায়গা ছিল। দোতলায় একটি মিডিয়া সেন্টার ছিল। মঙ্গলবার রাত থেকে ওই দু’টি তলা থেকে চেয়ার-টেবিল, ফ্লেক্স, ব্যাকড্রপ সরানোর কাজ শুরু হয়। তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভবনের উপরতলা থেকে আসবাব সরানোর কাজ শুরু করেছে তারাই। এই বিষয়ে মালিকপক্ষ কিংবা তৃণমূল— কারও তরফেই আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে দু’পক্ষের টানাপড়েন যে নতুন মোড় নিয়েছে, সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকেই উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে বাইপাসের ধারে পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকেই কলকাতার মেট্রোপলিটনের এই পাঁচতলা বাড়িটি অস্থায়ী তৃণমূল ভবন হিসাবে ব্যবহার করা শুরু হয়। মনে করা হচ্ছে, এ বার মেট্রোপলিটনের অস্থায়ী তৃণমূল ভবনটিতে পাকাপাকি ভাবে তালা পড়তে চলেছে। এখনও পুরনো তৃণমূল ভবনের সংস্কারের কাজ শেষ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ী ভাবে অন্য কোথাও তৃণমূল ভবনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

কয়েক দিন আগে দিল্লিতেও ঠাঁইনাড়া হতে হয়েছে তৃণমূলকে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলোর একটি অংশকে দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হত। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবির থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের শিবিরে পার্থ সরতেই, সরানো হয়েছে দিল্লির তৃণমূলের কার্যালয়টিকেও। নতুন কার্যালয় করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাংলোর একটি অংশে।

TMC Office TMC Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy