কারও ফোন বন্ধ, আবার কারও ফোন বেজেই চলেছে! কোথায় গেলেন উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার (ইউবিটি) লোকসভার সাংসদেরা? তবে কি উদ্ধব শিবিরে আবার ভাঙন আসন্ন? সেই নিয়ে জল্পনার মধ্যেই শোনা যাচ্ছে, বুধবার বা বৃহস্পতিবার নাকি দিল্লিতে উদ্ধব শিবিরের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন একনাথ শিন্দের পুত্র শ্রীকান্ত!
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সংসদীয় কমিটির বৈঠক ডেকেছে উদ্ধব শিবির। সেই বৈঠকে কত জন দলীয় সাংসদ উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও উদ্ধব শিবিরের দাবি, দলে ভাঙনের কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ রয়েছে।
সূত্রের খবর, দিল্লিতে শ্রীকান্তের বাসভবনে বৈঠক হওয়ার কথা উদ্ধব শিবিরের সাংসদদের। সেই বৈঠকে থাকতে পারেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে। শোনা যাচ্ছে, সেই বৈঠকের পর ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। সেখানেই পৃথক ‘ব্লক’ গঠনের প্রস্তাব দিতে পারেন তাঁরা। মনে করা হচ্ছে, ওই শিবির পরে শিন্দেসেনার সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে। সূত্র উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধব শিবিরের অন্তত ছ’জন সাংসদ শিন্দেসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদব।
অন্য এক সূত্রের দাবি, উদ্ধব ঘনিষ্ঠ অরবিন্দ সবন্ত এবং অনিল দেশাই বুধবার দিল্লি পৌঁছোতে পারেন। দলের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত ইতিমধ্যেই দিল্লিতে রয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, তাঁরা কি ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সঙ্গে দেখা করবেন? যদিও সেই সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক সূচি নেই।
আরও পড়ুন:
শিবসেনায় আগেই ভাঙন ধরেছিল। দল ভাঙিয়েছিলেন একনাথ। শিবসেনার নাম-প্রতীকও নিয়ে নিয়েছিলেন। এ বারও উদ্ধব দলে আরও ভাঙনের জন্য শিন্দেকেই কাজে লাগানো হচ্ছে বলে বিরোধী শিবিরের দাবি। বিভিন্ন সূত্রও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
সোমবার দিল্লিতে উদ্ধব শিবিরের সাংসদ সঞ্জয় দেশমুখের সঙ্গে শিন্দেসেনার নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর দল ভাঙনের জল্পনা বাড়ছে। রবিবার উদ্ধবের বাসভবন ‘মাতশ্রী’তে ডাকা বৈঠকে ছিলেন না সঞ্জয়। শুধু তিনি নন, আরও অনেকেই উদ্ধবের বাড়ির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার পরই ভাঙনের জল্পনা আরও বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ‘অপারেশন লোটাস’-এর পরে এ বার মহারাষ্ট্রে ‘অপারেশন টাইগার’! বিরোধী শিবির মনে করছে, লোকসভা ও রাজ্যসভায় মোদী সরকার এখন দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে মরিয়া। সেই জন্যই তৃণমূলের পরে এ বার শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে)-তে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। দলত্যাগ-বিরোধী আইনে যাতে উদ্ধব শিবিরের সাংসদেরা না পড়েন, তার জন্য ৯ জনের মধ্যে ৬ জনকে একসঙ্গে বেরিয়ে আসতে হবে। সেই অঙ্কেই নাকি এগোচ্ছে বিজেপি এবং শিন্দেসেনা।