২০১৩ সাল। পশ্চিমবঙ্গে তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। সেই সময়ে বিজেপিতে যোগ দেন অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়। এর পরে, ২০২১ সালে দল বদলে যোগ দেন তৃণমূলে। গত বছর ২১ জুলাইয়ের ম়ঞ্চেও দেখা যায় তাঁকে। বছরদুয়েক আগে স্বামীকে হারান অভিনেত্রী। তখনও তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত তিনি ছাড়বেন না কখনও। কারণ, স্বামীর মৃত্যুর পরে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছেন, তা তিনি ভুলতে পারবেন না। সময় বদলেছে, এখন রাজ্যে নতুন সরকার। টালিগঞ্জেও পালাবদল। প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এখন জেলে। এখন টলিপাড়ার অনেকেই তৃণমূল জমানায় কাজ না পাওয়ার অভিযোগ আনছেন। তৃণমূলের হাত ছাড়ছেন অনেকেই। এখনও কি তৃণমূলেই রয়েছেন সুভদ্রা? আনন্দবাজার ডট কম-কে কী বললেন?
আরও পড়ুন:
কাজ না-পাওয়া নিয়ে তেমন কোনও ক্ষোভ নেই সুভদ্রার। তিনি সাফ জানান, যখন বিজেপির অংশ ছিলেন, তখনও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেতে কোনও সমস্যা হয়নি। যখন তৃণমূল করেছেন, তখনও তেমন সমস্যা হয়নি। যদিও সেই সময়ে সুভদ্রার পরিবারে একের পর এক বিপর্যয় ঘটতে থাকে। প্রথমে বাবা, তার পরে স্বামীর মৃত্যু— সব সামলাতে কাজ থেকে খানিক বিরতি নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সুভদ্রার কথায়, ‘‘সিপিএমের আমল থেকে তৃণমূল জমানা, এখন বিজেপি এসেছে। এখনও পর্যন্ত কখনও কাজ নিয়ে সমস্যা হয়নি। তবে বেশ কিছু প্রযোজনা সংস্থা বা পরিচালক রয়েছেন, যাঁরা আমাকে কাজে নেননি। আমি এর নেপথ্যে দুটোই কারণ দেখি। হয় আমাকে তাঁদের পছন্দ নয় অথবা আমার অভিনয় পছন্দ হয়নি।’’
তৃণমূলের হাত ছাড়ছেন তাদের সাংসদ-বিধায়কেরা। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতার র্যালি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে সর্ব ক্ষণ দেখা যেত বিনোদনজগতের একাধিক তারকাকে। তাঁদের অনেকেই এখন মুখ ফিরিয়েছেন। তবে সুভদ্রা স্পষ্ট জানান, দুম করে সম্পর্ক ভাঙার পক্ষপাতী নন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘সুসময়ে অনেকেই অনেকের পাশে থাকে। কিন্তু, কঠিন সময়ে কাউকে পাওয়া যায় না। এই বিপর্যয়ের পরেও দেখা হয়েছে দিদির সঙ্গে। এমন ফল যে হবে, ভাবা যায়নি। ফলাফল হয়তো অর্ধেক-অর্ধেক হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু মানুষের মধ্যে এত রাগ, বিদ্বেষ, অভিমান জমে আছে, তা আন্দাজ করা যায়নি। আমরা যখন দিদির সঙ্গে কোনও মিছিলে হেঁটেছি বা একুশে জুলাইয়ের সময়েও দেখেছি, তিলধারণের জায়গা থাকত না। এখন যা দেখছি, সত্যি বলতে খারাপ লাগছে।’’
টলিউডের তারকাদের সঙ্গে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
তৃণমূল সাংসদদের অধিকাংশই এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। তবে দলবদলের পক্ষপাতী নন সুভদ্রা। তাঁর কথায়, ‘‘আমি এ সব নিয়ে ভাবছিই না। আমি যখন বিজেপিতে ছিলাম, তখন লোকে ‘বিজেপি করছি’ বলতে ভয় পেত। আমি বিজেপি ছেড়েছিলাম অনুরাগ ঠাকুর, কপিল মিশ্রদের করা মন্তব্যের কারণে। সেগুলোয় তো কোনও বদল হয়নি, তাই বিজেপি যাওয়ার কথা ভাবছি না। এটা একটা চক্রের মতো চলছে। যাঁরা তৃণমূলে থাকাকালীন টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ, তাঁরাই বিজেপিতে যাচ্ছেন। আসলে ওয়াশিং মেশিনে শুদ্ধ হচ্ছেন! কিন্তু মানুষ কী পাচ্ছেন? আমি সত্যি আমার দেশের জন্য চিন্তিত।’’
মমতার ডাকা মিছিলে টলিপাড়ার তারকারা।
সুভদ্রা সরাসরি জানান, তিনি অকৃতজ্ঞ নন। তাঁর স্বামীর মৃত্যুর সময়ে এবং বাবার মৃত্যুর সময়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পাশে ছিলেন। তিনি সেই সহযোগিতা ভুলতে পারবেন না। সুভদ্রার কথায়, ‘‘আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন খুব খারাপ একটা সময় চলছে। আমার দুঃসময়ে তিনি পাশে ছিলেন, আমি এই সময়ে অকৃতজ্ঞ হতে পারব না।’’