Advertisement
E-Paper

রেশনে ‘উন্নতমানের চাল’ দেওয়া নিয়ে খাদ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে বিপাকে পড়েছেন রেশন ডিলাররা, বিহিত চেয়ে চিঠি রেশন ডিলার সংগঠনের

অনেক রেশন ডিলার বর্তমানে ভীত ও উদ্বিগ্ন। তাঁরা মনে করছেন, গ্রাহকেরা উন্নতমানের চালের প্রত্যাশা নিয়ে দোকানে এলেও সেই মানের চাল হাতে না পেলে ক্ষোভের সঞ্চার হতে পারে। সেই ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে ডিলারদেরই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১২:৫৯
Ration dealers\\\' association writes to Food Minister regarding complications over \\\'high-quality rice\\\' in June

খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। —ফাইল চিত্র।

আগামী জুন মাস থেকে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও উন্নতমানের চাল দেওয়ার ঘোষণা করেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তাঁর সেই ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের মন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছে, বাস্তবে ডিলারদের কাছে যে চাল পৌঁছেছে, তার মান পূর্বে বিতরণ করা চালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত নয়। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক তৈরি হওয়ায় রেশন দোকানগুলিতে অশান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, খাদ্যমন্ত্রী সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেছিলেন, জুন মাস থেকে রেশন গ্রাহকদের আরও উন্নতমানের চাল সরবরাহ করা হবে। ওই চালের বাজারমূল্য কেজি প্রতি ৪১.৬৭ টাকা হলেও তা রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিল রেশন ডিলারদের সংগঠন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উন্নত মানের চাল পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সংগঠনের অভিযোগ, জুন মাসের জন্য ইতিমধ্যেই যে চাল ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে বিভিন্ন রেশন দোকানে পৌঁছেছে, তার গুণগত মান আগের চালের সমতুল বা সামান্য ভাল। ফলে সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের মতে, এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা রেশন দোকানে এসে প্রশ্ন তুলতে পারেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভ বা গোলযোগের ঘটনাও ঘটতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অনেক রেশন ডিলার বর্তমানে ভীত ও উদ্বিগ্ন। তাঁরা মনে করছেন, গ্রাহকেরা উন্নতমানের চালের প্রত্যাশা নিয়ে দোকানে এলেও সেই মানের চাল হাতে না পেলে ক্ষোভের সঞ্চার হতে পারে। সেই ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে ডিলারদেরই। অথচ চালের গুণমান নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। তাই সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে খাদ্য দফতরকে সরাসরি উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের প্রস্তাব, খাদ্য দফতরের আধিকারিক, ডিস্ট্রিবিউটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চালের নমুনা পরীক্ষা করা হোক এবং সেই পরীক্ষার ফল লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হোক। এতে ভবিষ্যতে কোনও অভিযোগ উঠলে ডিলারেরা গ্রাহকদের সামনে প্রমাণ তুলে ধরতে পারবেন। পাশাপাশি খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে চালের প্রকৃত মান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

রেশন ডিলার সংগঠনের মতে, গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণ না হলে যে হতাশা তৈরি হবে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে রেশন দোকানগুলির উপর। তাই পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই খাদ্য দফতরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। চিঠির অনুলিপি মুখ্যসচিব, খাদ্য কমিশনার, খাদ্য দফতরের বিভিন্ন আধিকারিক, সমস্ত জেলাশাসক, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Ration Dealers Food Minister
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy