Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_03-05-26

জয়ের হ্যাটট্রিক কেকেআরের! আইপিএলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন রাহানের দলের, হায়দরাবাদ ৭ উইকেটে উড়ে গেল নারাইন-বরুণদের সামনে

রবিবার হায়দরাবাদে সানরাইজার্সকে হারিয়ে আইপিএলে জয়ের হ্যাটট্রিক করল কলকাতা। ইডেনে হারের প্রতিশোধও নিল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— সব বিভাগেই প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়েছে কলকাতা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১৯:০২
cricket

সুনীল নারাইনকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিটিআই।

ঠিক দু’সপ্তাহ আগে রাজস্থানকে হারিয়ে আইপিএলে প্রথম বার জিতেছিল কলকাতা। ওই ম্যাচের পর থেকে দলের মানসিকতাই বদলে গিয়েছে। কলকাতাকে রোখা যাচ্ছে না। রবিবার হায়দরাবাদের মাঠে তাদেরই হারিয়ে আইপিএলে জয়ের হ্যাটট্রিক করল কলকাতা। প্রথম পর্বে ইডেনে হারের প্রতিশোধও নিল তারা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— সব বিভাগেই এ দিন প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়েছে কলকাতা। খেলেছে চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই। আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান পরিবর্তন না হলেও কেকেআর নতুন করে আশা জাগিয়েছে সমর্থকদের মনে। প্রথমে ব্যাট করে ১৬৫ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল হায়দরাবাদ। চলতি মরসুমে প্রথম বার। সেই রান ৩ উইকেট হারিয়ে তুলে নিয়েছে কলকাতা।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হায়দরাবাদ। কিন্তু যে ‘ট্র্যাভিষেক’ জুটিকে নিয়ে ভয় ছিল, তাদের একজন অভিষেক শর্মা দাগই কাটতে পারলেন না। ট্র্যাভিস হেড অর্ধশতরান করলেও বাকিরা ভাল খেলতে পারেননি। ফলে হায়দরাবাদকে টানা পাঁচটি ম্যাচ পর হারতে হল। ছন্দে থাকা হায়দরাবাদকে হারানো নিঃসন্দেহে কেকেআরের কাছে সাফল্য।

ঘরের মাঠে কেকেআরের সামনে শুরুটা খারাপ করেনি হায়দরাবাদ। অভিষেক এবং হেড স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বড় রান করার। অভিষেক খুব একটা ভাল স্পিন খেলতে পারেন না। তাই শুরুতেই কলকাতার অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে এগিয়ে দিয়েছিলেন সুনীল নারাইনকে। চতুর্থ বলেই নারাইনকে ছয় মারেন অভিষেক। দ্বিতীয় ওভারে পেসার ফিরতেই ছন্দে ফেরে হায়দরাবাদ। বৈভবকে চারটি চার মারেন হেড। পরের ওভারে নারাইনকেও একটি চার এবং একটি ছয় মারেন। তিন ওভারে ৩৭ রান উঠে যায়।

চতুর্থ ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। অভিষেককে শর্ট বল করেছিলেন কার্তিক ত্যাগী। অভিষেক পুল করেছিলেন। বল ব্যাটের কানায় লেগে আকাশে উঠে যায়। ক্যাচ ধরেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে হেডকে থামানো যাচ্ছিল না। তিনি গ্রিনকে পর পর তিনটি চার মারেন। ছাড়েননি কার্তিককেও। হেডের সঙ্গে ঈশান থাকলেও তাঁর কাজ ছিল মূলত একটি দিক ধরে রাখা।

বরুণ প্রথম ওভারে ১৩ রান হজম করেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারে তাঁকে দু’টি চার এবং একটি ছয় মেরে বিপদে ফেলেছিলেন হেড। নবম ওভারে বরুণই বোকা বানিয়ে আউট করেন হেডকে। গতির তারতম্য এনে বল করেছিলেন। হেড চালিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন গ্রিনের হাতে। পরের ওভারে হেনরিখ ক্লাসেনকে তুলে নেন গ্রিন। একটি ছয় এবং চার মারার পর তিনি ক্যাচ দেন রভমান পাওয়েলের হাতে। পাওয়েলের ক্যাচের প্রশংসা করতে হবে। বল অনেকটা দূরে থাকা সত্ত্বেও ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে যে ক্যাচটি নেন তা মনে রাখার মতোই।

এর পর ঈশান একটা দিকে টিকে থাকলেও অপর দিক থেকে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। ব্যর্থ স্মরণ রবিচন্দ্রন (৪), অনিকেত বর্মা (৬), সলিল অরোরা (২), প্যাট কামিন্স (১০), শিবঙ্গ কুমার (১)। ঈশানও আগ্রাসী হতে গিয়ে আউট হন ২৯ বলে ৪২ করে। কেকেআরের হয়ে তিনটি উইকেট বরুণের। দু’টি করে উইকেট নারাইন এবং কার্তিকের।

হায়দরাবাদের মাঠে ১৬৬ রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। কারণ এই মাঠে বহু বার ২০০-র বেশি রান উঠেছে। কেকেআর এ দিন দলে দু’টি বদল করেছিল। ওপেনার হিসাবে টিম সেইফার্টের জায়গায় ফেরানো হয়েছিল ফিন অ্যালেনকে। রমনদীপ সিংহের জায়গায় এসেছিলেন মণীশ পাণ্ডে। মাঠের বাইরে দীর্ঘ দিন কাটানো অ্যালেন নজর কাড়লেন আগ্রাসী ক্রিকেটে।

তবে শুরুটা ধীরগতিতেই হয়। প্রথম তিন ওভারে ওঠে ২২ রান। চতুর্থ ওভারে প্যাট কামিন্সকে দু’টি ছয় এবং দু’টি চার মারেন অ্যালেন। একটি ওয়াইড বলও চার হয়ে যায়। তবে সেই ওভারেই অ্যালেনকে (২৯) তুলে নেন কামিন্স। নামেন অঙ্গকৃশ। পাওয়ার প্লে-তে কেকেআর ৭১ তুলেছিল।

আস্কিং রেট খুব বেশি না থাকায় কেকেআরকে বিশেষ তাড়াহুড়ো করতে হয়নি। দুই ব্যাটারই চেষ্টা করছিলেন প্রতি ওভারে ৯-১০ করে রান তোলার। প্রতি ওভারে একটি চার মারলেই চলত। সেটাই করেছেন অজিঙ্ক রাহানে এবং অঙ্গকৃশ। রাহানে চাইলেই ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারতেন। ১৫তম ওভারে সাকিব হুসেনের বলে সহজ ক্যাচ দিলেন স্মরণের হাতে। ফিরলেন ৩৬ বলে ৪৩ রানে। একই কথা বলা যায় অঙ্গকৃশের ক্ষেত্রেও। পাঁচটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ৪৭ বলে ৫৯ করে আউট হন তিনি। কেকেআরের বাকি রান তুলে দেন রিঙ্কু সিংহ (অপরাজিত ২২) এবং গ্রিন (অপরাজিত ৩)।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
KKR SRH Varun Chakravarthy Sunil Narine Angkrish Raghuvanshi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy