Advertisement
E-Paper

জলে গেল পরাগের ৯০ রান! রাহুলের ব্যাটে হারের হ্যাটট্রিকের ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরল দিল্লি

টানা তিন ম্যাচ হেরে চাপে পড়ে গিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। অবশেষে জয়ে ফিরল তারা। জয়পুরের মাঠে রাজস্থান রয়্যালসকে হারালেন অক্ষর পটেলরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ২৩:২৯
cricket

ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পথে লোকেশ রাহুল। ছবি: পিটিআই।

কোন দিন তারা কেমন খেলবে, নিজেই জানে না দিল্লি ক্যাপিটালস। সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৬৪ রান করেও হেরেছিল তারা। পরের ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মাত্র ৭৫ রানে অল আউট হয়ে লজ্জার হার হয়েছিল অক্ষর পটেলদের। সেই দিল্লিই রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ২২৬ রান তাড়া করে জিতল। জেতালেন সেই লোকেশ রাহুল। জলে গেল প্রথম ইনিংসে করা রিয়ান পরাগের ৯০ রানের ইনিংস। আইপিএলের ইতিহাসে এটি দিল্লির সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান করেছিল দিল্লি। পরাগের ৫০ বলে ৯০ রানের পাশাপাশি ডোনোভান ফেরেরা ১৪ বলে ৪৭ রান করেন। ৫ বল বাকি থাকতে সেই রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জেতে দিল্লি। রাহুল ৪০ বলে ৭৫ রান করেন। পাথুম নিসঙ্ক করেন ৩৩ বলে ৬২ রান।

সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচের মাঝে সাজঘরে ধূমপান করায় বিতর্ক হয়েছিল পরাগকে ঘিরে। তাঁকে জরিমানার শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্বাসনের সাজা পাননি তিনি। যদিও পরাগের এই কাজের সমালোচনা করেছেন অনেকে। সেই বিতর্ক হয়তো বাড়তি তাগিদ জুগিয়েছিল পরাগকে। মুখে কিছু বলেননি তিনি। ব্যাটে জবাব দিতে চেয়েছিলেন। সেটাই দিলেন দিল্লির বিরুদ্ধে।

এই ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশী বনাম মিচেল স্টার্কের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সকলে। কিন্তু সেই লড়াই দেখাই গেল না। প্রথম ওভারেই ব্যাটই করতে পারল না বৈভব। শুরুতে স্ট্রাইক নেন যশস্বী জয়সওয়াল। স্টার্কের প্রথম বলে ছক্কা মারলেও তৃতীয় বলে আউট হয়ে যান তিনি। ধ্রুব জুরেল বাকি তিন বল খেলেন। ফলে বৈভব স্টার্কের বল খেলার সুযোগই পায়নি।

দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ব্যাট করার সুযোগ পায় বৈভব। কাইল জেমিসনের প্রথম বলেই সোজা চার মারে সে। দ্বিতীয় বলটিই ইয়র্কার করেন জেমিসন। বৈভব তা বুঝতে পারেনি। তার ব্যাট ও প্যাডে লেগে বল গিয়ে উইকেটে লাগে। দ্বিতীয় বলে বোল্ড হয়ে ৪ রানের মাথায় ফেরে সে। বৈভবকে আউট করে জেমিসন-সহ গোটা দিল্লি দলের উল্লাস বলে দিচ্ছিল, এই উইকেটের গুরুত্ব তাঁদের কাছে কী। যদিও এই উল্লাস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৫ বছরের এক ব্যাটারকে আউট করে জেমিসনের আগ্রাসী উল্লাসের নিন্দা করেছেন অনেকে।

মাত্র ১২ রানে দুই ওপেনার আউট হয়ে যান। বৈভব-যশস্বীর ব্যাট না চললেও রাজস্থানের রান তোলার গতি কমতে দেননি পরাগ ও জুরেল। পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটেন তাঁরা। পাওয়ার প্লে কাজে লাগান। পরাগকে শুরু থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, অনেক জবাব দেওয়ার আছে তাঁর। বাজে শট খেলছিলেন না। কিন্তু প্রতি ওভারে বড় শট মারছিলেন। জুরেলও তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন।

৩২ বলে অর্ধশতরান করেন পরাগ। চলতি আইপিএলে এটি তাঁর প্রথম অর্ধশতরান। ৫৯ বলে ১০২ রানের জুটি গড়েন দুই ব্যাটার। সেই জুটি ভাঙেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল। ৩০ বলে ৪২ রানের মাথায় আউট হন জুরেল। তার পরেও রান তোলার গতি কমেনি রাজস্থানের। পরাগের সঙ্গে জুটি বাঁধেন রবীন্দ্র জাডেজা।

দিল্লিকে আবার খেলায় ফেরান স্টার্ক। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এক ওভারে জাডেজা ও পরাগকে আউট করেন তিনি। পরাগের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, শতরান না করে থামবেন না। কিন্তু স্টার্কের একটি বলের গতি বুঝতে না পেরে ৫০ বলে ৯০ রানের মাথায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। জাডেজা ১৪ বলে ২০ রান করেন।

পর পর দু’উইকেট পড়ায় রাজস্থানের রান তোলার গতি কমে গিয়েছিল। তখনই আবার ত্রাতার ভূমিকায় ফেরেরা। গত ম্যাচে রাজস্থানের হয়ে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এই ম্যাচেও দেখালেন, শেষ দিকে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন তিনি। মাত্র ১৪ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেললেন ফেরেরা। ছ’টি ছক্কা মারলেন। তাঁর ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান করল রাজস্থান। দিল্লির হয়ে চলতি মরসুমে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে নজর কাড়লেন স্টার্ক। চার ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন তিনি।

২২৬ রান তাড়া করতে হলে শুরুটা ভাল দরকার ছিল দিল্লির। সেটাই করলেন নিসঙ্ক ও রাহুল। শুরু থেকে আক্রমণের পথে যান তাঁরা। এক বারও উইকেট বাঁচিয়ে খেলার চেষ্টা করেননি। পাওয়ার প্লে-তে জফ্রা আর্চার এই আইপিএলে ভাল বল করছেন। তাঁকেও পাল্টা মারের রাস্তায় যান দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লে-তে ৭০ রান তোলেন দু’জনে।

শুরুতে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন নিসঙ্ক। এই ম্যাচে তাঁর খেলা অনিশ্চিত ছিল। খেলা শুরুর এক ঘণ্টা আগেও জানতেন না তিনি খেলছেন। কিন্তু আগের ম্যাচের ওপেনার সাহিল পরখ চোট পাওয়ায় নিসঙ্ককে দলে নেওয়া হয়। সেই তিনিই অর্ধশতরান করেন। ৯.৩ ওভারে দু’জনের মধ্যে ১১০ রানের জুটি হয়। সেই জুটি ভাঙেন জাডেজা। ৩৩ বলে ৬২ রান করেন নিসঙ্ক।

তিন নম্বরে নেমে নীতীশ রানাও দ্রুত বড় শট মারা শুরু করেন। রাহুল ২৭ বলে অর্ধশতরান করেন। চলতি আইপিএলে ভাল ফর্মে তিনি। একটি শতরানের পাশাপাশি নিজের তৃতীয় অর্ধশতরান করলেন তিনি। নীতীশ ১৭ বলে ৩৩ রান করে তুষার দেশপাণ্ডের বলে আউট হন। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দিল্লিকে বড় ধাক্কা দেন আর্চার। তাঁর বলে বড় শট মারার চেষ্টা করেন রাহুল। ব্যাট হাতে ঘুরে যায়। ফলে বল বাউন্ডারি পার করেনি। ক্যাচ ধরেন ফেরেরা। ৪০ বলে ৭৫ রান করেন রাহুল।

দিল্লির জেতার জন্য শেষ ২৪ বলে ৪২ রান দরকার ছিল। ক্রিজ়ে ছিলেন ট্রিস্টান স্টাবস ও আশুতোষ শর্মা। দু’জনেই দিল্লির হয়ে অনেক ম্যাচ শেষ করেছেন। ডেভিড মিলার এই ম্যাচে না থাকায় তাঁরা জানতেন, তাঁদেরই জেতাতে হবে। ঠান্ডা মাথায় দলকে জেতান দুই ক্রিকেটার। স্টাবস ১১ বলে ১৮ ও আশুতোষ ১৫ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
সর্বশেষ
৩ ঘণ্টা আগে
Delhi Capitals Rajasthan Royals KL Rahul
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy