সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি আসনের (ফলতা আসনে নতুন করে ভোট ঘোষণা করেছে কমিশন) ভোটগণনা রয়েছে। সকাল ৮টায় গণনা শুরু হবে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন আসন থেকে গণনার প্রাথমিক আভাস আসতে শুরু করে দেবে। এ বারের নির্বাচনে ভবানীপুরে ইভিএমের মোট ২০ রাউন্ড গণনা হবে। অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে ইভিএম গণনা হবে মোট ১৮ রাউন্ড।
রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্রের ৪৫৮টি হলে সোমবার ভোটগণনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাউন্ডের গণনা হবে চুঁচুড়ায়। সেখানে ২৭ রাউন্ড ইভিএম গণনা হবে। সবচেয়ে কম রাউন্ড গণনা রয়েছে মেটিয়াবুরুজ, সপ্তগ্রাম এবং বীজপুরে। এই তিন আসনেই ১০ রাউন্ড করে গণনা হবে। সোমবারের গণনাপর্বের জন্য মোট ২৯৩ জন গণনা পর্যবেক্ষক থাকছেন। এ ছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকছেন।
এ বারের নির্বাচনে শুরু থেকেই নজর ছিল ভবানীপুর আসনের দিকে। তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর আসনের স্ট্রংরুম রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। সেই স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দিতে সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা স্বয়ং। প্রায় চার ঘণ্টা বসেছিলেন সেখানে। শুভেন্দুর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসও স্ট্রংরুমের ‘পাহারায়’ বসেছিলেন। সোমবার সেই ভবানীপুরে ১৮ রাউন্ড ইভিএম গণনা হবে।
আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের পাশাপাশি, এ বার নন্দীগ্রাম আসনের ফল কী হয়, সে দিকেও নজর রয়েছে সকলের। গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকেই মমতাকে পরাস্ত করেন শুভেন্দু। এ বার সেই আসনে শুভেন্দুর বিপরীতে লড়ছেন তৃণমূলের পবিত্র কর। সোমবার নন্দীগ্রাম আসনে মোট ১৮ রাউন্ড ইভিএম গণনা হবে। অন্য দিকে, খড়্গপুর সদর আসন থেকে লড়ছেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। সেখানে ২০ রাউন্ড গণনা রয়েছে। গত লোকসভা ভোটে পরাস্ত হওয়ার পরে এ বার বহরমপুর থেকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। সেখানে সোমবার ১৬ রাউন্ড গণনা রয়েছে। মুর্শিদাবাদেরই রেজিনগর আসনে মোট ২৭ রাউন্ড গণনা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত