E-Paper

ভোটে এ বার থাকছে ‘সুপার সেন্সিটিভ’ বুথ

ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, গত ভোটে বহু জায়গায় ক্যামেরা লাগানো হলেও, সেগুলির বড় অংশ কাজ করেনি। অনেক জায়গায় ক্যামেরার মুখ আড়াল করে দেওয়া হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে এক এলাকার ছবির বদলে অন্য এলাকার ছবি দেখানো হয়েছিল কন্ট্রোল রুমে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৭

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

অতীতের ভোট-হিংসা, অশান্তির তথ্য দেখে এ বারের ভোট-পরিকল্পনা যে করা হবে, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এ বার তারা ভোটকেন্দ্র (বুথ) নজরদারির মানদণ্ডেও কিছুটা বদল আনার ইঙ্গিত জেলা-কর্তাদের দিল। সূত্রের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী, এ বার ‘সুপার সেন্সিটিভ’ গোত্রেও বুথগুলিকে ভাগ করার পরিকল্পনা চলছে। আগে যা ছিল শুধুমাত্র সাধারণ এবং ‘ক্রিটিকাল’ গোত্রের। সেই অনুযায়ী নজরদারির প্রযুক্তি পাল্টানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, গত ভোটে বহু জায়গায় ক্যামেরা লাগানো হলেও, সেগুলির বড় অংশ কাজ করেনি। অনেক জায়গায় ক্যামেরার মুখ আড়াল করে দেওয়া হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে এক এলাকার ছবির বদলে অন্য এলাকার ছবি দেখানো হয়েছিল কন্ট্রোল রুমে। সেই কারণে আগের বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে কমিশন। নতুন সংস্থাকে টেন্ডার করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএএস অফিসার নীলম মীনাকে গোটা ব্যবস্থাপনা দেখার দায়িত্বও দিয়েছে কমিশন।

এ বার বুথের ভিতর এবং বাইরে ক্যামেরা বসানো হবে। জেলাশাসকদের বলে দেওয়া হয়েছে, সাধারণ বুথের ভিতর একটি এবং বাইরে একটি ক্যামেরা থাকবে। তবে ‘ক্রিটিকাল’ বা ‘সুপার সেন্সিটিভ’ গোত্রের ভোটকেন্দ্রের ভিতর একাধিক ক্যামেরা বসানো হতে পারে। ক্যামেরা এমন ভাবে বসাতে হবে, যাতে সেখানকার প্রতিটি গতিবিধি স্পষ্ট ধরা যায়। যে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, তাতে ভোটযন্ত্রের জায়গার কাছাকাছি একাধিক ব্যক্তি গেলে ক্যামেরার স্বংয়ক্রিয় ব্যবস্থা কমিশনের কন্ট্রোলরুমকে সঙ্কেত পাঠাবে। বুথের ভিতরে একাধিক ব্যক্তি প্রবেশ করলেও (ভোটকর্মী বাদে) একই কাজ করবে ক্যামেরা। বুথের বাইরে এমন ভাবে ক্যামেরা বসাতে হবে, যাতে ভোটারদের লাইন, আশপাশের এলাকা—সবই নজরে রাখা যায়। ভোটের দিনের অন্তত দু’দিন আগে মহড়া চালাতে হবে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে।

গত বিভিন্ন ভোটে বুথ এলাকায় পৌঁছনোর রাস্তাও আটকে দেওয়া হয়েছিল সাধারণ ভোটারদের জন্য। তেমন বুথগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেখানে বুথে পৌঁছনোর পথ বাধামুক্ত রাখতেও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্যামেরার নজরও থাকবে সেই সব দিকে। জেলা-কর্তাদের উদ্দেশে কমিশনের নির্দেশ, সব ব্যবস্থা সচল—লিখিত ভাবে এই শংসাপত্র দিতে হবে কমিশনের কাছে।

এই বিপুল ক্যামেরা-ব্যবস্থার সরাসরি সম্প্রচার হবে এসডিও, জেলাশাসক, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং কমিশনের কন্ট্রোলরুমে। সিইও অফিসের একটি তলায় পৃথক ভাবে বৃহৎ আয়তনের কন্ট্রোলরুম তৈরির কাজও শেষ। কয়েকশো ‘স্ক্রিনে’ গোটা রাজ্যের ভোট-ছবির সর্বক্ষণ নজরদারি চালাবেন মাইক্রো অবজ়ার্ভার এবং অন্য আধিকারিকেরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

vote booth Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy