E-Paper

সোনারপুরে দুই অভিনেত্রী মুখোমুখি, বহিরাগত প্রশ্নে চর্চা

গত বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন লাভলি। এ বারও তাঁকেই টিকিট দিয়েছে দল। লাভলিকে নিয়ে অবশ্য দলেরই একাংশের অসন্তোষ গত কয়েক বছরে বার বার প্রকাশ্যে এসেছে।

সমীরণ দাস 

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৬:২০
(বাঁ দিকে) লাভলি মৈত্র এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) লাভলি মৈত্র এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

এক দিকে তৃণমূলের অরুন্ধতী (লাভলি) মৈত্র। অন্য দিকে, বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ভোটের ময়দানে এ বার রুপোলি পর্দার দুই অভিনেত্রীর মুখোমুখি লড়াই হবে সোনারপুর দক্ষিণে। ইতিমধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছেন দু’জনেই। বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে অবশ্য বারবারই ইতিউতি প্রশ্ন উঠছে এলাকায়। যদিও বহিরাগত তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া দুই অভিনেত্রীই। এ দিকে, বহিরাগত প্রার্থীদের বিরোধিতা করে নির্দল হিসেবে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূলের নিলম্বিত ছাত্র নেত্রী রাজন্যা হালদার।

গত বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন লাভলি। এ বারও তাঁকেই টিকিট দিয়েছে দল। লাভলিকে নিয়ে অবশ্য দলেরই একাংশের অসন্তোষ গত কয়েক বছরে বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছেন লাভলি। শুক্রবার রাজপুরের রবীন্দ্র ভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন আরও এক অভিনেত্রী তথা এলাকার সাংসদ সায়নী ঘোষ।

সূত্রের খবর, ফের টিকিট পাওয়ার প্রশ্নে দলের একাধিক পঞ্চায়েত-প্রধান এবং পুরপ্রতিনিধি তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন। যে কারণে সে দিনের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন নেতাদের অনেকেই। এলাকার কাউকে প্রার্থী করার দাবিতে দলের অন্দরেই আওয়াজ উঠেছিল। যদিও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহিরাগত তকমা ঝেড়ে ফেলতে ইতিমধ্যেই সোনারপুর দক্ষিণের ভোটার হয়েছেন লাভলি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি এই এলাকারই মেয়ে। গত পাঁচ বছর এলাকায় থেকে কাজ করেছি। মানুষ সুখে-দুঃখে আমাকে পেয়েছেন। আগামী দিনেও পাবেন। আমরা শুধু ভোটের সময়ে এসে উদয় হই না।” সায়নী বলেন, “তৃণমূল সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকে। বিধায়ক গত পাঁচ বছর এলাকায় পড়ে থেকে কাজ করেছেন। আগামী দিনেও করবেন।”

এ দিকে, বৃহস্পতিবার নাম ঘোষণার পরেই শুক্রবার এলাকায় পা রাখেন রূপা। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সোনারপুর মোড়ে জনসংযোগ করতে দেখা যায় তাঁকে। দক্ষিণ কলকাতার এক আবাসনের বাসিন্দা রূপা জানিয়েছেন, এই এলাকার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি একটি বাড়ি কিনেছিলেন বহু বছর আগে। সেই বাড়ি এখনও আছে। সেখানে তাঁর বাবা-মা দীর্ঘ দিন বসবাস করেছেন। তিনিও সেখানে এসেছেন বহু বার। সে দিক থেকে তিনি এই এলাকারই বাসিন্দা বলে দাবি তাঁর। রূপার কথায়, “তিরিশ বছর ধরে এখানে আমার বাড়ি রয়েছে। দলের কাজেও বহু বার এসেছি। এলাকা আমার চেনা। মানুষের সমস্যার কথাও আমি ভাল করেই জানি।” সূত্রের খবর, এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজেপির এক পদাধিকারী নেতা এবং এক মহিলা নেত্রীর নাম নিয়ে চর্চা ছিল। তবে, শেষ পর্যন্ত রূপার নামই ঘোষণা করে দল।

শুক্রবার যে এলাকায় প্রচার সারেন রূপা, তার আশপাশে স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে বহিরাগত প্রশ্নে ক্ষোভের আঁচ মিলেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, “রাজনীতি বুঝি না। তবে, এলাকায় রাস্তাঘাট, যানজটের সমস্যা তীব্র। বর্ষায় জল জমে। স্থানীয় কেউ হয়তো সমস্যাগুলো ভাল বুঝতেন।”

বহিরাগত নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রাজন্যাও। তৃণমূলের ব্রিগেডের মঞ্চে বক্তব্য রেখে হইচই ফেলে দেওয়া ছাত্র নেত্রী রাজন্যা পরবর্তীকালে দল থেকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) হন। পরে বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে চর্চা হয়। কিছু দিন আগে জনসংগ্রাম মঞ্চ গড়ে নানা কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। সেই মঞ্চের তরফেই রাজ্যের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছে। রাজন্যা বলেন, “সোনারপুরের এই এলাকা যথেষ্ট প্রগতিশীল। বহু বিশিষ্ট মানুষ জন্মেছেন এখানে। অথচ, রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী হিসেবে এলাকার কাউকেই খুঁজে পায় না। বাইরে থেকে লোক এনে প্রার্থী করা হয়। তার জেরে ভুগতে হয় আমাদের। গত পাঁচ বছরে রাস্তাঘাট, যানজট, নিকাশির সমস্যা চরমে উঠেছে। আমার এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যেই আমার ভোটে দাঁড়ানো।”

রাজপুরের বিপত্তারিণী মন্দিরে পুজো দিয়ে রাজন্যা প্রচার শুরু করেন। পরে সুভাষগ্রামে নেতাজির বাড়ি-সহ বেশ কয়েক জায়গায় যান। রাজন্যার প্রার্থী হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে ইঙ্গিত, বিজেপির মদতেই তৃণমূলের ভোট কাটতে নেমেছেন তিনি। সায়নী বলেন, “কারা, কী উদ্দেশ্যে ওকে ভোটের লড়াইয়ে নামিয়েছে, তা সবাই জানেন।” রূপা বলেন, “ভোটের লড়াইয়ে যে কেউ নামতে পারে। আমি সকলকেই সম্মান করি। মানুষের উপরে বিশ্বাস রাখি। তাঁরাই শেষ কথা বলবেন।”

প্রচার শুরু করেছেন এই কেন্দ্রের বাম প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্তও। সিপিআই-এর মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদক পারমিতাও এই এলাকার বাসিন্দা নন। তবে তাঁর কথায়, “কে অভিনেত্রী, কে সাধারণ মানুষ, কে কোথায় থাকেন, এ সবের উপরে কিছু নির্ভর করে না। শেষ পর্যন্ত মানুষ যাঁকে ভরসাযোগ্য বলে মনে করবেন, তাঁকেই জেতাবেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election Rupa Ganguly Lovely Moitra Sonarpur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy