আগামিকাল কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্য কয়েকটি এলাকায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর তিনটি জনসভা। আর তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরসমর্থনে পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে সক্রিয় হলেন আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং জেএমএম প্রধান হেমন্ত সোরেন। আজ বিকেল থেকেই উত্তর চব্বিশ পরগনায় তৃণমূলের হয়ে প্রায় পাঁচটি জনসভা করেছেন তেজস্বী। তৃণমূল দাবি করছে তেজস্বীকে ঘিরে উন্মাদনা রয়েছে স্থানীয় মানুষের। কেজরীওয়াল যাবেন রবিবার। হেমন্ত ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত নির্বাচনী প্রচার কৌশল তৈরির সময়ে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন, এ বার পশ্চিমবঙ্গের বাইরের কোনও দল বা নেতাকে কাজে লাগানো হবে না প্রচারে। তৃণমূল নিজের প্রচার নিজে করবে। গোড়াতেই উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব মমতার সঙ্গে কথা বলে আসতে চেয়েছিলেন বঙ্গের প্রচারে। কিন্তু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসতে নিষেধ করা হয়। বলা হয় বাইরে থেকে সমাজমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-কে নিশানা করতে। তাহলে শেষ মুহূর্তে কেন এই অবস্থানের বদল? তৃণমূল সূত্রে জানানো হচ্ছে এর প্রধান কারণ দু'টি। একটি হল, বন্ধু সমমনস্ক দলগুলির তরফে বারবার জানানো হচ্ছিল বঙ্গে বিজেপি-বিরোধী এই লড়াইয়ে তারা ভূমিকা নিতে চায়। তাদের আর না বলা যাচ্ছিল না। দ্বিতীয়তএবং প্রধানত রাহুল গান্ধীকে বার্তা দেওয়া। বিরোধীরা যৌথ ভাবে লোকসভার মহিলাদের সংরক্ষণ সংশোধনী বিলে ভোটাভুটিতে সরকারকে পরাস্ত করার পরে কংগ্রেসের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছিল তৃণমূলের। স্থির হয়েছিল, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে মমতাকে সরাসরি নিশানা করবেন না।
কিন্তু রাহুল গান্ধী দু'দিন আগেও ভিডিয়ো বার্তায় তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূলকে। তাই অন্য বিরোধী দলগুলিকেও পাশে নিয়ে তৃণমূল রাহুলের আক্রমণকে গুরুত্বহীন করে এটাই বোঝাতে চাইছে বাংলায় তথা দেশে বিজেপি-বিরোধী প্রধান মুখ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই তা অকংগ্রেসি সব দলই আজ রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবেমেনে নিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)