E-Paper

তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, গ্রেফতার মায়ের সঙ্গী

গত মাসে ঘটনার পরে তিন বছরের নিথর মেয়েকে কোলে নিয়ে হতভম্ব অবস্থায় ফুটপাতে বসে ছিলেন ওই তরুণী। সেখানে টহলরত পুলিশকর্মীরা তা দেখতে পেয়ে মা-মেয়েকে উদ্ধার করেন। সংজ্ঞাহীন শিশুটিকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৩

— প্রতীকী চিত্র।

তিন বছরের মেয়েকে কোলে করে মায়ের কাছে নিয়ে এসে তাঁর একত্রবাসের সঙ্গী বলেছিল, ‘‘দেখ না, মেয়ের কী হয়েছে? কথা বলছে না।’’ মেয়ে তখন সংজ্ঞাহীন। একরত্তির সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত। তিন বছরের সেই মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগে তার মায়ের সঙ্গী যুবককে গ্রেফতার করল ময়দান থানার পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক মাস পরে, ২৬ বছরের ওই পলাতক যুবককে শুক্রবার সকালে গঙ্গাসাগর মাঠ থেকে ধরা হয়। এ দিন বিচার ভবনের বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক পাপিয়া দাস অভিযুক্তকে ৭ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার সরকারি আইনজীবী সৈকত পাণ্ডে বলেন, ‘‘আগামী সোমবার আদালতে ধৃতের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা এবং নির্যাতিতার মায়ের গোপন জবানন্দির আর্জি জানানো হবে।’’

এই ঘটনায় প্রথমে জানা গিয়েছিল, ধৃত যুবক নির্যাতিতার সৎবাবা। যদিও পরে পুলিশ দাবি করে, মৃতার মায়ের সঙ্গে ওই যুবকের বিয়ে হয়নি। ওই তরুণী ও তাঁর মেয়ের সঙ্গে মধ্য কলকাতার একটি ফুটপাতে থাকত অভিযুক্ত যুবক। ভিক্ষা করে কোনও মতে দিন গুজরান হত পরিবারটির। নির্যাতিতার মা, ২৪ বছরের তরুণীর আগে এক বার বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়ের সূত্রেই তাঁর দু’টি মেয়ে হয়। বড় মেয়ে থাকে দিদিমার কাছে। ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে ফুটপাতে থাকতেন তরুণী। সেই যুবকই তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ এবং মারধর করে খুন করে বলে অভিযোগ।

গত মাসে ঘটনার পরে তিন বছরের নিথর মেয়েকে কোলে নিয়ে হতভম্ব অবস্থায় ফুটপাতে বসে ছিলেন ওই তরুণী। সেখানে টহলরত পুলিশকর্মীরা তা দেখতে পেয়ে মা-মেয়েকে উদ্ধার করেন। সংজ্ঞাহীন শিশুটিকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রের খবর, এই ঘটনায় নির্যাতিতা মেয়ের মা তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, গত ২১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মেয়েকে যৌন নির্যাতন ও খুন করে ওই যুবক। মেয়ের সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে, কী ভাবে শিশুটিকে খুন করা হয়েছে, তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ময়দান থানার পুলিশ। ঘটনার পরেই অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, সে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় পালিয়েছিল। ফের কলকাতায় ফিরলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ দিন সকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘পুলিশকে দেখতে পেয়ে ওই যুবক ছুটে পালাচ্ছিল। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে গঙ্গাসাগর মাঠ থেকে গ্রেফতার করে।’’ ধৃতের বিরুদ্ধে খুন এবং পকসো আইনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ধৃতকে এ দিন বিশেষ পকসো আদালতে হাজির করা হলে সৈকত তাকে ৭ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানান। ধৃতের কোনও আইনজীবী না থাকায় তার হয়ে মামলা লড়েন লিগাল এড ডিফেন্স কাউন্সেলের আইনজীবী। তিনি ধৃতকে অল্প দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানান। বিচারক তা খারিজ করে সরকারি আইনজীবীর আবেদন মঞ্জুর করেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rape and Murder police investigation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy