টিকিট না-পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন হুগলির চুঁচুড়ার প্রবীণ বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনের পরে ‘শান্ত’ হয়েছেন রাজনীতি ছেড়ে দিতে চাওয়া বিদায়ী বিধায়ক। এ বার তাঁর ঘোষণা, চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য ৪০ হাজারের ভোটে জিতবেন। অন্য দিকে, শুক্রবার দেবাংশুর প্রচারের পরিকল্পনা করতে গিয়ে ঘুরিয়ে অসিতের টিকিট না-পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অসিতের ‘অনুগামী’ কাউন্সিলর এবং পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নির্দেশে দেবাংশুর হয়ে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে চুঁচুড়ায়। সাংসদ রচনাও তাঁর দফতর থেকে তৃণমূল কর্মীদের ভোটপ্রচারের বিভিন্ন নির্দেশ দিয়েছেন। অসিতের টিকিট না-পাওয়ার কথা উঠতেই রচনা জানান, তিনি যতটুকু জেনেছেন, কোনও বিদায়ী বিধায়ককে পুনরায় টিকিট দেওয়ার আগে তিনটি জিনিস দেখেন শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁর কথায়, ‘‘আগের প্রার্থীকে যদি আমরা আবার আনতে চাই, তা হলে তাঁর গুডউইল (সুনাম), মানুষের বিশ্বাস, আস্থা আছে কি না, ভালবাসা কতটা, তা দেখার প্রয়োজন হয়। সে নিয়ে ‘সার্ভে’ (সমীক্ষা) করা হয়। এই জায়গাগুলিতে যদি জয়ী হতে পারেন, তবেই পুরনো প্রার্থীকে ‘রিপিট’ করা হয়। এই ভাবে দল সিদ্ধান্ত নেয়।’’
অসিতের ক্ষেত্রে কি সেগুলোর কোনওটার অভাব ছিল? তৃণমূল সাংসদের জবাব, এগুলো তাঁরা জানেন না। মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে শেষ কথা। তাঁদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থীর ভূয়সী প্রশংসা করে রচনা বলেন, ‘‘দেবাংশু আমার থেকে রাজনীতিতে পুরনো। দিদি (মমতা) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁকে পাঠিয়েছেন। ওঁর উপর আস্থা রেখেছেন।’’ রচনা এ-ও জানিয়েছেন, এখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ভাববার সময় নেই। দ্বন্দ্ব ভুলে সকলকে ঝাঁপাতে হবে।
গত লোকসভা ভোটে চুঁচুড়া বিধানসভায় প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কাটাছেঁড়ায় উঠে এসেছে, এমন ফলের অন্যতম কারণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। অন্য দিকে, গত দু’বছর সাংসদ রচনা এবং বিধায়ক অসিতের ‘দ্বন্দ্ব’ বার বার সর্বসমক্ষে এসেছে। দেবাংশুর অবশ্য দাবি, চুঁচুড়ায় তাঁরা পিছিয়ে থাকলেও শেষ বলে ছক্কা মেরে জিতবেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘পাঁচ বছর আগে একটি রিয়্যালিটি শোয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। দিদি অ্যাঙ্কারিং করছিলেন। আমি শুরুর রাউন্ডে পিছিয়ে ছিলাম। আস্তে আস্তে প্রথম হয়েছিলাম। এখানেও দিদি অ্যাঙ্কারিং করছেন। লাস্ট রাউন্ডে গিয়ে এখানেও ছক্কা হাঁকিয়ে জিতব।’’
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, অসিত জানিয়েছেন, ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ শব্দটাই সংবাদমাধ্যম তৈরি করেছে। প্রার্থী হতে না পেরে তাঁর সাময়িক রাগ হয়েছিল বটে। তবে অভিষেকের ফোন পেয়ে রাগ জল হয়ে গিয়েছে। দেবাংশুকে জেতাতে দলের সকলেই ঝাঁপাচ্ছেন।