গত বিধানসভা এবং গত লোকসভা ভোটে সিপিএমের প্রথম সারির নেতা হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তী। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ৩২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। যেখানে এক জন আরএসপি, তিন জন সিপিআই বাদ দিয়ে বাকি ২৮ জনই সিপিএমের। কিন্তু তালিকায় নেই সেলিম-সুজন।
গত সোমবার প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বামেরা। কিন্তু লোকসভা ভোটের নিরিখে এগিয়ে থাকা একমাত্র বিধানসভা মুর্শিদাবাদের রানিনগর ছেড়ে রাখা ছিল প্রথম তালিকায়। বাদ ছিল কলকাতার টালিগঞ্জ। নানা নিয়মের বিধিতে এ বার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের ভোটে লড়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অনুমতি দেওয়া হয়েছে কেবল মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং দেবলীনা হেমব্রমকে। কিন্তু তার পরেও দলের একাংশ চেয়েছিল, সেলিম লড়ুন রানিনগরে। সুজনকে টালিগঞ্জে লড়ার বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত দুই নেতার কেউই লড়ছেন না। রানিনগরে সিপিএম প্রার্থী করেছে স্থানীয় নেতা জামাল হোসেনকে। টালিগঞ্জে লড়বেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্টের বৈঠকে এবং তার পরে প্রার্থী ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন না ফরওয়ার্ড ব্লকের (ফব) কোনও প্রতিনিধি। দলের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সিপিএমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আমাদের কিছু আসন নিয়ে এখনও সমস্যা মেটেনি। তাই যাইনি।’’ অসুস্থতার কারণে প্রার্থী ঘোষণার সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন না বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও।
দু’জন প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ককে এই তালিকায় প্রার্থী করেছে সিপিএম। ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম আসন থেকে লড়বেন প্রাক্তন সাংসদ পুলিনবিহারী বাস্কে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি থেকে লড়বেন প্রাক্তন বিধায়ক রামশঙ্কর হালদার। বাঁকুড়ার জেলা সম্পাদক হিসাবে দেবলীনার পরে পূর্ব মেদিনীপুরের সিপিএম জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহিও নির্বাচনে লড়ছেন। তাঁকে পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য মুখ বলতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আফরিন শিল্পী বেগম। তিনি লড়বেন বালিগঞ্জ থেকে। এই তরুণীকে নিয়েই সিপিএমের প্রতিনিধিদল দেখা করেছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে। ঘটনাচক্রে, শিল্পীর নাম ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ হয়ে রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত বামফ্রন্টগত ভাবে দু’দফায় ২৩৪টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হল। এর মধ্যে ফ্রন্টের সমর্থনে রাজ্যের ১০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিআইএমএল (লিবারেশন)। গোটা ৩০ আসনে ইদের পরে প্রার্থী ঘোষণা করবে নওশাদ সিদ্দিকিদের দল আইএসএফ। তার পরেও ফ্রন্টের মধ্যে এবং আইএসএফের সঙ্গে আসন নিয়ে বোঝাপড়া বাকি থাকবে অন্তত ২০টি আসনে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২০:৩৪
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কোনও ঢিলেমি সহ্য করবে না কমিশন! কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে ফের বার্তা দিলেন সিইও মনোজকুমার -
১৯:০০
গণনাকর্মীদের মোবাইল নম্বর প্রকাশিত হলে কড়া পদক্ষেপ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন -
১৮:১৬
এ বার বর্ধমানে স্ট্রংরুম-বিতর্ক! সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ? কারচুপি সন্দেহে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল নেতৃত্ব -
১৭:৪৪
কোথায় কোন আসনের গণনা? রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভার গণনা কোন ৭৭ কেন্দ্রে? বিশদ তালিকা দিল নির্বাচন কমিশন -
১৬:৪৯
জয় নিয়ে প্রত্যয়ী শমীক! গণনার আগে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন, কেউ যেন হিংসায়, অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়েন