E-Paper

৭০ আসন চিন্তা বাড়াবে তৃণমূলের, মত আলোচনায়

বিপুল সংখ্যক ভোটার কমে যাওয়া অন্তত ৭০টি আসনে তৃণমূলকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চলেছে। যেমন জলপাইগুড়ি আসনে ২০২১ সালে তৃণমূল ৯৪১ ভোটে জিতেছিল। ওই কেন্দ্রে প্রথম তালিকায় বাদ পড়ে ৩৮০০ ও বিবেচনাধীনের তালিকায় রয়েছে ২১০০ ভোটার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৪

—প্রতীকী চিত্র।

ক্রমশ কমে আসছিল ব্যবধান। গত লোকসভায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ভোট প্রাপ্তির নিরিখে ব্যবধান ছিল সাত শতাংশের কাছাকাছি। ভোটের ঠিক আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে ভাবে বিপুল নাম বাদ পড়েছে, তাতে গত বিধানসভার জয়ের ব্যবধানের ভিত্তিতে তৃণমূলের অন্তত ৭০টি জেতা আসনে বিজেপি এখন ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে বলে ‘নির্বাচন চুরি’ শীর্ষক আলোচনাচক্রে দাবি করলেন রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদব। প্রশ্ন উঠল, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর মাধ্যমেই কি বাংলা দখলে মিশন সফল হতে চলেছে বিজেপির!

গত লোকসভায় তুলনামূলক ভাবে খারাপ ফল করেছিল বিজেপি। কিন্তু ভোট প্রাপ্তির নিরিখে ২০২১ সালের বিধানসভা থেকে প্রায় দু’শতাংশ ভোট বেশি পায় পদ্ম শিবির। আজ দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এবং যোগেন্দ্র যাদবের ‘ভারত জোড়ো অভিযান’ সংস্থার তরফে যে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, তাতে দাবি , এসআইআরের ফলে অস্বাভাবিক ভাবে মোট যোগ্য ভোটারের ৫ শতাংশের নাম কাটা গিয়েছে। যোগেন্দ্রদের দাবি, ‘‘ওই ব্যবধান কমা স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপিকে সাহায্য করবে। যাঁরা বাদ গিয়েছেন তাঁরা অধিকাংশই মুসলিম এবং মূলত তৃণমূলের ভোটার। রাজ্য হিসেবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর পরে ভোটার কমেছে।’’

পরিসংখ্যান বলছে, এই বিপুল সংখ্যক ভোটার কমে যাওয়া অন্তত ৭০টি আসনে তৃণমূলকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চলেছে। যেমন জলপাইগুড়ি আসনে ২০২১ সালে তৃণমূল ৯৪১ ভোটে জিতেছিল। ওই কেন্দ্রে প্রথম তালিকায় বাদ পড়ে ৩৮০০ ও বিবেচনাধীনের তালিকায় রয়েছে ২১০০ ভোটার। যোগেন্দ্রের মতে, পাঁচ বছর আগের ভোট দেওয়ার প্রবণতা যদি কম-বেশি এক থাকে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের জেতা কষ্টকর। একই ভাবে, নদিয়ার হরিণঘাটা কেন্দ্রে তৃণমূলের পক্ষে জয়ের ব্যবধান ছিল ১৫,২০০। প্রথম তালিকা ও বিবেচনাধীনের আওতায় রয়েছেন যথাক্রমে ১০,৫০০ জন এবং ১৭,৫০৬ জন। রাজনীতিকদের মতে, এসআইআরের কারণে এ ধরনের প্রায় ৫৪-৭০টি আসন ধরে রাখা এখন তৃণমূলের পক্ষে চিন্তার। অন্য দিকে, বিজেপি শিবিরের এক নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘যা ভোটার বাদ পড়েছে তাতে অন্তত পঞ্চাশটি আসনে পাঁচ বছর আগের ব্যবধানের নিরিখে দল ইতিমধ্যেই এগিয়ে গিয়েছে। অনুমান লোকসভার পর থেকে অন্তত তিন-চার শতাংশ ভোট বেড়েছে দলের।’’

যোগেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, পরিকল্পিত ভাবে তিনটি এলাকা থেকে ভোটার বেশি বাদ পড়েছে। প্রথমত-শিল্প করিডর (পশ্চিম বর্ধমান, ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া হাওড়া, হুগলি)। পরিসংখ্যান বলছে, হাওড়া (উত্তর) কেন্দ্রে ভোটার বাদ পড়েছে ২৮.৪৮ শতাংশ। বাদ পড়াদের মধ্যে বড় সংখ্যক তৃণমূলের ভোটার হলে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে। দ্বিতীয়ত, মালদহ-মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে সব থেকে বেশি ভোট বাদ পড়েছে। তৃতীয়ত মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা (নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা)- এই এলাকাগুলিতে গোড়ায় প্রচুর পরিমাণে মতুয়া ভোট বাদ পড়ে। যা দেখে বিজেপি মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক কমিটি গড়ে। তাতে বাস্তবে আদৌও কোনও লাভ হবে কি না তা ভোটের ফলে বোঝা যাবে। ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-এর তরফে সুমন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বহু মতুয়া মহিলার নাম বাদ গিয়েছে। যা তাৎপর্যপূর্ণ।’’ তৃণমূলের দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকার বাইরে রাখতেই মহিলাদের নাম বাদ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy