Advertisement
WBState_Assembly_Elections_Lead0_02-05-26

বেলচা, লাঠি, লঙ্কাগুঁড়ো নিয়ে তৈরি সল্টলেকের আদিবাসী মহিলারা

হাতে বেলচা-লাঠি, কোঁচড়ে ‘ঝালগুঁড়া’। ওঁরা হেঁকে বলছেন, ‘কে সন বাপকে বেটা হ্যায় আউন না। হানউ বুঝে নিবে। ইট-বেলচা দেকে ছেঁচবেই!’ (বাপের বেটা হলে আসুক। বুঝে নেব। ইট, বেলচা দিয়ে ছেঁচব)।

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাজল গুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৬ ১৩:২৪
খাসমহলের প্রতিবাদীরা। (বাঁ দিক থেকে) শঙ্করী মুণ্ডা, সারদা বিশ্বাস, দুর্গা মুণ্ডা এবং পুষ্প মুণ্ডা। ছবি: শৌভিক দে।

খাসমহলের প্রতিবাদীরা। (বাঁ দিক থেকে) শঙ্করী মুণ্ডা, সারদা বিশ্বাস, দুর্গা মুণ্ডা এবং পুষ্প মুণ্ডা। ছবি: শৌভিক দে।

হাতে বেলচা-লাঠি, কোঁচড়ে ‘ঝালগুঁড়া’। ওঁরা হেঁকে বলছেন, ‘কে সন বাপকে বেটা হ্যায় আউন না। হানউ বুঝে নিবে। ইট-বেলচা দেকে ছেঁচবেই!’ (বাপের বেটা হলে আসুক। বুঝে নেব। ইট, বেলচা দিয়ে ছেঁচব)।

সল্টলেকের সুকান্তনগর লাগোয়া ভেড়ি অঞ্চল খাসমহল। গত অক্টোবরের পুরভোটে এখানকার চোখের ভেড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭০ নম্বর বুথের সামনে সাংবাদিক আর ফোটোগ্রাফারদের ঘিরে ধরে কাগজ-পেন-ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছিল মারমুখী ভিড়। শাসানি দিয়েছিল, ‘‘যা দেখছিস দেখে নে। ছবি তুললে তোদেরই ছবি করে দেব।’’

সোমবার দিনের শেষে সেই খাসমহলই দেখল— কেউ ভোট লুঠ করতে আসেনি। কেউ আটকায়নি, মেরে ফেরত পাঠায়নি। নিজের ভোট নিজে দিয়েছেন ভোটাররা!

রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই পাহারা দিয়ে গিয়েছে আদিবাসী মহিলাদের বাহিনী। দুর্গা মুণ্ডা, শঙ্করী মুণ্ডা, পুষ্প মুণ্ডারা শপথ নিয়েছিলেন, ভোট লুঠ ঠেকাতে হবে।

ভয় করেনি? প্রশ্ন শুনে ঝাঁঝিয়ে ওঠেন দুর্গা, ‘‘পাড়ার সবাই খেপে রয়েছে। স্বামীরা বলেছে, দরকার পড়লে ডেকো। গত বার আমরা বুঝতে পারিনি। এ বার তৈরি।’’

রাগটা তৈরি হয়েছিল পুরভোট থেকেই। সে বার ভোট দিতে গিয়ে অনেককেই ফিরে আসতে হয়। পুষ্পা মুণ্ডা, কমলা মুণ্ডা, ভানুমতী মুণ্ডাদের অভিযোগ, সে বার মেরে বুথ থেকে তাড়িয়েছিল শাসক দলের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী। তাই এ বার এককাট্টা হন মহিলারা। ভোটের দিন চারেক আগে থেকেই দুর্গা মুণ্ডার নেতৃত্বে পাড়ায় প্রচার শুরু হয়— ‘যা হয় হবে। নিজের ভোট নিজে দেবে’।

তবে প্রতিরোধের কাজটা যে সহজ হবে না, সে আশঙ্কা ছিলই। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই খবর আসছিল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং রাজারহাটের দিক থেকে বহিরাগতরা ঢুকতে পারে। রাত গভীর হতে একটি ভেড়িতে জড়ো হয় কিছু বহিরাগত। প্রমীলা-বাহিনীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। কিন্তু নজরদারি থামাননি দুর্গারা। দিনের শেষে বুথের সামনে বিজয়িনীর হাসি ওঁদের মুখে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy