E-Paper

স্থায়ী কর্মীর ঘাটতি, রাজ্য নাজেহাল ভোটে নিয়োগে

রাজ্যে প্রায় ৮১ হাজার বুথে নিয়োগ করতে হবে ভোটকর্মী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসারেরা। তেমনই আছেন প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পোলিং অফিসার।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটকর্মী নিয়োগের প্রস্তুতি পর্বেও সরকারি স্তরে কর্মসংস্থানের ছবি ফের প্রশ্নের মুখে চলে এল।

ভোটের কাজে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে কড়াকড়ি রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সেই আদেশ অমান্য হওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি এক জেলাশাসককে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর নির্দেশও দিয়েছে দিল্লির নির্বাচন সদন। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি সরকারি কর্মচারী পেতে কার্যত নাজেহাল পরিস্থিতি জেলাকর্তাদের। তাঁদেরই একাংশের যুক্তি—সময়ের চাহিদা মেনে সরকারি স্তরে নিয়োগের পথ মসৃণ থাকলে হয়তো এই সমস্যা তৈরি হত না।

রাজ্যে প্রায় ৮১ হাজার বুথে নিয়োগ করতে হবে ভোটকর্মী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসারেরা। তেমনই আছেন প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পোলিং অফিসার। শুধুমাত্র এই পরিমাণ নিয়োগে প্রয়োজন প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কর্মী। প্রয়োজনের নিরিখে কারও দায়িত্ব বদলের কারণে ‘রিজ়ার্ভ’ তৈরি রাখতে হলে সংখ্যাটা আরও বাড়বে। জেলাকর্তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, সবচেয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে তৃতীয় পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে। সাধারণত, এই স্তরের নিয়োগ হয়ে থাকে গ্রুপ-ডি পদমর্যাদার কর্মীদের থেকে। তাঁরাই ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটারদের হাতের আঙুলে কালি লাগিয়ে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি সরকারি কর্মচারী হিসাবে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ হচ্ছে না। বিকল্প ভাবে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ করা হচ্ছে ওই পদে। ফলে ওই স্তরে স্থায়ী সরকারি কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত যে কর্মী-ঘাটতি ধরা পড়েছে, গোটা রাজ্যে তা ৩০-৩৫ শতাংশের মতো। কিন্তু সেই ঘাটতি কী ভাবে মিটবে, তা এখনও অজানা।

এই পরিস্থিতি কেন হল, তা নিয়ে প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০১৫ সালের শেষে পশ্চিমবঙ্গ গ্রুপ-ডি নিয়োগ বোর্ড তৈরি করে সরকার। লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়—পরবর্তী ১০ বছরে ৬০ হাজার স্থায়ী নিয়োগ করা হবে ওই পদে। তার ভিত্তিতে শুরু হয় প্রস্তুতি। পুরোদস্তুর কম্পিউটার পরিচালিত পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন প্রায় ২৫ লক্ষ আবেদনকারী। তাঁদের মধ্যে স্নাতকোত্তর, বিটেক-এমটেক-সহ পিএইচ ডি-র মতো উচ্চ শিক্ষিতরাও ছিলেন। ২০১৭ সালের মে মাসে পরীক্ষায় বসেন প্রায় ১৮.৭০ লক্ষ পরীক্ষার্থী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২১ হাজারের ইন্টারভিউ শেষে যোগ্য ৫,৯০০ জনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়। ২০১৮ সালে তাঁদেরই নিয়োগ করে সরকার। ওই বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান অতনু রাহা বলেন, “একসঙ্গে ৬০ হাজার নিয়োগ করা যায় না। সে সময়ে রাজ্য সরকার ছ’হাজারের চাহিদা জানিয়েছিল। সেই হিসাবেই ৫,৯০০ জনের নিয়োগ হয়েছিল।” আধিকারিক সূত্রের খবর, তার পরে ওই বোর্ড অকার্যকর হয়ে যায়। তার পর থেকে প্রথাগত ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে স্থায়ী গ্রুপ-ডি পদে তেমন নিয়োগ হয়নি বললেই চলে। কিন্তু সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ধরলে ১০ বছরে ৬০ হাজার নিয়োগ করার কথা ছিল। তা করা গেলে এত দিনে হয়তো সেই নিয়োগগুলি হয়ে যেত, দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। তা হলে স্থায়ী গ্রুপ-ডি খুঁজে পেতে এত সমস্যা হত না।

অথচ জেলাকর্তাদের পরিস্থিতি সামলাতে হবে কমিশনের বিধি মেনেই। সূত্রের দাবি, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের অফিস রয়েছে, সেখান থেকে কর্মী জোগাড় করা যেতে পারে। তাতে কমিশনের আপত্তি নেই। কিন্তু সেই সুবিধা হাতে গোনা কিছু জেলাতেই আছে। এর পরে ঘাটতি মেটাতে দু’ভাগে নিয়োগ করতে হতে পারে। প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদেরই ফের দায়িত্ব দিতে হতে পারে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের জন্য। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফার জেলাগুলিতে ওই বিপুল সংখ্যক কর্মীর যাতায়াত এবং থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যা মোটেই সহজ কাজ নয়। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’টি দফার ভোট হবে। ফলে পদক্ষেপ করতে হবে দ্রুতই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Work

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy