Follow us on
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors
Powered by
Co-Powered by
Co-Sponsors

সপ্তাহান্তে সফর হোক ইতিহাসের সঙ্গে, হাতের কাছেই ইউনিক লজ

এক টুকরো ইতিহাসের কোলাজ প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ইউনিক লজ।২১ নম্বর দে স্ট্রিটের এই বাড়িটি ‘সিংহ বাড়ি’  নামে পরিচিত

বর্ণিনী মৈত্র চক্রবর্তীব
কলকাতা| ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৯:১৭ শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৯:১৭

বাংলা ছাপাখানার আঁতুড়ঘর শ্রীরামপুর। গেলেই মনে হয়, যেন ইতিহাস সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। একদা ড‌্যানিশ অধ‌্যুষিত এলাকা ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। আজও এখানকার রাস্তাঘাট-অলি-গলিতে যেন সেই আবেশ।

তেমনই এক টুকরো ইতিহাসের কোলাজ প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ইউনিক লজ। এ বাড়িতে রয়েছে বেশ কিছু দুষ্প্রাপ‌্য মার্বেলের মূর্তি, পোর্সেলিনের শিল্প নিদর্শন, বর্মা টিকের আসবাবপত্র এবং প্রচুর ঘড়ি। ২১ নম্বর দে স্ট্রিটের এই বাড়িটি ‘সিংহ বাড়ি’ নামে পরিচিত। সেই সময়ের এক বিখ‌্যাত বিল্ডিং কনট্রাক্টর দুর্গাপ্রসন্ন ভট্টাচার্যের বাড়ি এটি। বর্ধমানের দেবীপুর এঁদের আদি বাসস্থান। সেখান থেকে ১৯ শতকের মাঝামাঝি শ্রীরামপুরে চলে আসা। দুর্গাপ্রসন্নের বাবা কালীনাথ ভট্টাচার্যকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ‌্যাসাগর তলব করেন শ্রীরামপুরে সংস্কৃত পড়ানোর উদ্দেশ‌্যে। সেই সময় থেকেই পরিবারের শ্রীরামপুর বাস। কালীনাথ খুব অল্প বয়সেই ইহলোক ত‌্যাগ করেন। এর পর তাঁর পুত্র দুর্গাপ্রসন্ন নির্মাণ শিল্পে নিযুক্ত হন। প্রচুর পরিশ্রম করে নিজের প্রতিপত্তি স্থাপন করেন। এমনই খ‌্যাতি ছিল যে, হাওড়া ব্রিজ তৈরির টেন্ডারও চাওয়া হয় তাঁর থেকে। নিউ মার্কেটের একটি অংশও তাঁর সংস্থার দ্বারা নির্মিত।

শ্রীরামপুরের এই বাড়িতে একদা একটি ব‌্যক্তিগত চিড়িয়াখানা ছিল। যেখানে ভারতীয় ও বর্মার সাদা ময়ূর, কাকাতুয়া, ম‌্যাকাও, আফ্রিকান ও অস্ট্রেলীয় টিয়া, সাদা-কালো রাজহাঁস, সোনার হরিণ ছিল। এখনও বাড়ির একতলার বারান্দায় নানা ধরনের পাখির দেখা মেলে। দুর্গাপ্রসন্নের নানা ধরনের বিদেশি কুকুরও ছিল। গ্রেট ডেন থেকে শুরু করে, আইরিশ সেটার, ইংলিশ সেটার ছিল। এই সমস্ত কুকুর নিয়ে তিনি প্রচুর শো করতেন।

এ সমস্ত শো-তেই ব্রিটিশদের সঙ্গে আলাপ সালাপ জমান। ক্রমে তাঁদের বাড়ি, অফিস বিল্ডিং নির্মাণ করতে শুরু করেন। ইংরেজ মহলে বেশ নামডাক হয় তাঁর।ইতিহাসে মোড়া এই বাড়িতে যেমন প্রচুর শৈল্পিক নিদর্শন মিলবে, আবার বাড়ি ভর্তি বেশ কিছু ঘড়িও নজর কাড়বে। বাড়ি ভর্তি দুর্লভ সমস্ত শিল্পবস্তু, আসবাব। বেশ কিছু দুষ্প্রাপ‌্য জিনিসপত্রেরও দেখা মিলবে, যা বিগত এক দশক ধরে বাড়ির বর্তমান প্রজন্মের প্রবক্তা প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য মশাইয়ের সংগ্রহ। বাড়ি ভর্তি যে নানা রকমের ঘড়ির দেখা মিলবে, তার প্রত‌্যেকটি সচল। প্রত‌্যেকটি আসবাবপত্র, শিল্পবস্তু একেবারে ঝকঝকে তকতকে।বাড়িতে ঢুকতেই অতিথি আপ‌্যায়নের ঘরে রাখা ইটালীয় মার্বেলের গোলাকৃতি টেবিল, দেওয়ালে বিভিন্ন পেন্টিং, পূর্বপুরুষদের ছবি–– সব মিলিয়ে একেবারে নস্টালজিক পরিবেশ। বাড়ির দালানে একটি অতি চমৎকার ঝরনার দেখা মেলে। প্রায় ৪১টি ঘরের এই আড়াইতলার বাড়িটির একতলায় একটি ঘর রয়েছে, যেখানে কিউরিওর পাশাপাশি ছোট ছোট গাড়ির এক সুন্দর সংগ্রহও নজর কাড়ে। এই ঘরেই কালীনাথ ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রীর একটি ছবি দেখতে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ইতিহাসের সঙ্গে একটা গোটা দিন কাটানোর ঠিকানা এই ইউনিক লজ। ইউনিক অভিজ্ঞতা হবে, নিশ্চিত।এমন এক টুকরো অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে সপ্তাহ শেষে টুক করে ঘুরে আসুন। কেবল মাত্র হপ্তান্তেই পর্যটকদের জন‌্য এখানকার দ্বার খোলা। যাওয়ার আগে অবশ‌্যই প্রদীপ্তবাবুকে যোগাযোগ করে নেবেন।

আরও পড়ুন