শুভ দিন

গৃহপ্রবেশ

‘একটি গৃহপ্রবেশ’ (গৃহ যজ্ঞ)-এর অনুষ্ঠান হল একটি শুভ মুহূর্ত। যখন কোনও ব্যক্তি প্রথম বার কোনও নতুন বাড়িতে প্রবেশ করে, তখন গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান হয়। আবার যখন কোনও সম্পত্তি কেনা হয় বা নতুন বাড়িতে স্থানান্তরিত হতে হয়, তখনও একটি শুভদিনে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান পালন করা হয় সৌভাগ্য লাভের জন্য। অর্থাৎ, শুধু মালিকের জন্যই নয়, সমগ্র পরিবারের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তু অনুযায়ী, একটি ঘর পাঁচটি উপাদান দ্বারা গঠিত হয়—সূর্য, পৃথিবী, জল, আগুন ও বায়ু। একটি ঘরে এই উপাদানগুলির সঠিক সংমিশ্রণ, সুখ, সুস্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। এই অনুষ্ঠানের জন্যএকটি তামার পাত্র জল দিয়ে ভরা হয় এবং তাতে নয় ধরনের শস্য ও একটি মুদ্রা রাখা হয়। একটি নারকেল পাত্রটির উপর রাখা হয় এবং পুরোহিত দ্বারা মন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেবাড়ির একজন এটি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে।

পূজা ও বিশেষ দিনক্ষণ

ঈশ্বর হলেন মহাবিশ্বের জীব ও জড় সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রক তিনিই। ঈশ্বরের শক্তিতে বিশ্বাসীকে আস্তিক আর অন্যপক্ষকে নাস্তিক বলা হয়।শুধুমাত্র একজন সার্বভৌম ঈশ্বরের ধারণাকে বলা হয় একেশ্বরবাদ। পঞ্চদেবতা পূজা বা পঞ্চায়তন পূজা হল হিন্দুধর্মের স্মার্ত সম্প্রদায়ের একটি পূজা পদ্ধতি। কথিত, অষ্টম শতাব্দীর হিন্দু দার্শনিক আদি শঙ্কর পঞ্চদেবতা পূজার প্রবর্তন করেন। এই পদ্ধতিতে পাঁচ দেবতার পূজা হয়— গণেশ,শিব, সূর্য, বিষ্ণু ও দুর্গা। স্মার্ত পারিবারিক নিয়ম অনুসারে, এই পঞ্চদেবতার একজন থাকেন কেন্দ্রে এবং বাকিরা কেন্দ্রীয় দেবতাকে ঘিরে থাকেন। ছোট মূর্তি বা পাঁচ ধরনের বিশেষ পাথরে বা মাটিতে আঁকা বিশেষ চিত্রে (যন্ত্র) পঞ্চদেবতার পূজা হয়।স্মার্তরা এই পঞ্চদেবতাকে পৃথক দেবতা হিসাবে না দেখে ব্রহ্মের পাঁচটি রূপভেদ মনে করেন। স্মার্ত মন্দিরগুলির গর্ভগৃহে পঞ্চদেবতা পূজার জন্য বিশেষ আসন দেখা যায়।

উপনয়ন

এই হিন্দু শাস্ত্রানুষ্ঠানের মাধ্যমে হিন্দু বালকেরা ব্রাহ্মণ্যসংস্কারে দীক্ষিত হয়। উপনয়ন হিন্দু বালকদের শিক্ষারম্ভকালীন একটি অনুষ্ঠান।হিন্দুধর্মে ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য বর্ণের জন্য উপনয়নের ন্যূনতম বয়স যথাক্রমে সাত, তেরো ও সতেরো বছর। উপনয়নকালে বালকদের ব্রহ্মোপদেশ শিক্ষা দেওয়াহয়। মনুস্মৃতি অনুযায়ী, এরপর তারা ব্রহ্মচারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে অবশ্য কেবলমাত্র ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রেই উপনয়ন সংস্কার প্রচলিত।উপনয়নে শরীরে উপবীত (পৈতে) ধারণ করা হয়। উপবীত প্রকৃতপক্ষে তিনটি পবিত্র সুতো, যা দেবী সরস্বতী, গায়ত্রী ও সাবিত্রীর প্রতীক। উপবীত ধারণের সময় উপবীতধারী গায়ত্রী মন্ত্র শিক্ষা করে। উপনয়নের পর উপবীতধারীকেদ্বিজ বলা হয়। দ্বিজ শব্দের অর্থ দুইবার জাত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রথমবার ব্যক্তির জন্ম হয় মাতৃগর্ভ থেকেএবং দ্বিতীয়বার জন্ম হয় উপবীত ধারণ করে।

ব্যবসা শুরু

ব্যবসা-বাণিজ্য একটি শব্দ যা দ্বারা পণ্যদ্রব্য ক্রয় ও বিক্রয়ের কাজকে নির্দেশ করে। স্মরণাতীতকাল থেকে বাংলার অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধি হয়ে আসছে। বাংলায় অসংখ্য নদী-নালা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উপযোগী সুবিধাজনক যোগাযোগ ব্যবস্থার পথ তৈরী করে দিয়েছিল। আর বঙ্গোপসাগরের সান্নিধ্য বাংলাকে দিয়েছিল সামুদ্রিক বাণিজ্যের সুযোগ। এই বাণিজ্যিক ঐতিহ্য সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দ থেকে শুরু হয়েছিল। বাংলার প্রাচীন ও মধ্যযুগের ব্যবসা বাণিজ্যের ধরণের সাথে সাথে আমরা বর্তমানে ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বা ই- বাণিজ্য অর্থাৎ একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র, যেখানে কোনও ইলেকট্রনিক সিস্টেম( ইন্টারনেট বা অন্য কোন কম্পিউটার নেটওইয়ার্ক) এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়/বিক্রয় করে থাকছি। আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ সম্পন্ন হয়ে চলেছে। এমত অবস্থাতেও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য শুরু করার নির্দিষ্ট সময় ও দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিয়ে

বিবাহ হল একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি, যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়।বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতিভেদে বিবাহের সংজ্ঞার তারতম্য থাকলেও সাধারণ ভাবে বিবাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিছু সংস্কৃতিতে, যে কোনও প্রকারের যৌন কর্মকাণ্ডে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন করাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে পরামর্শ দেওয়া হওয়া অথবা বিবেচনা করা হয়।বিবাহ সাধারণত কোনও রাষ্ট্র,সংস্থা,ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ,আদিবাসী গোষ্ঠী,কোনও স্থানীয় সম্প্রদায় অথবা দলগত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে। একে প্রায়শই একটি চুক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিবাহ মূলত একটি ধর্মীয় রীতি হলেও আধুনিক সভ্যতায় এটি একটি আইনি প্রথাও বটে।