ভাড়ার ফ্ল্যাট না কি আবাসনে নিজের ঘর, কলকাতায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে কোনটা বেশি লাভজনক? এবং কেন?

কলকাতায় প্রতি বছর ৫-৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ফ্ল্যাটের ভাড়া। অন্য দিকে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ভাবে আবাসনের সম্পত্তির ৬-১২ শতাংশ হারে হয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে তিলোত্তমায় ভাড়া না কি ফ্ল্যাট কেনা, কোনটা বেশি লাভজনক?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪৭
Share:

—প্রতীকী ছবি।

বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ। আশপাশের একের পর এক এলাকাকে কলকাতার সঙ্গে জুড়েছে মেট্রো রেল। যোগাযোগ ব্যবস্থার এ-হেন উন্নতিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে তিলোত্তমার রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসা। নতুন নতুন এলাকায় গড়ে উঠছে ঝাঁ-চকচকে আবাসন। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সামনে এসেছে একটা প্রশ্ন। ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া না কি কেনা, কলকাতায় কোনটা বেশি লাভজনক?

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ফ্ল্যাট ভাড়াকে বেশি সাশ্রয়ী বলে মনে হতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার নিরিখে সেটা একেবারেই সেরা বিকল্প নয়। আর তাই ফ্ল্যাট কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল ফ্ল্যাট কেনা ও ভাড়া নেওয়ার একটা তুলনামূলক আলোচনা।

রিয়্যাল এস্টেট নজরদার সংস্থাগুলির দাবি, মুম্বই, পুণে, হায়দরাবাদ বা বেঙ্গালুরুর নিরিখে কলকাতায় ফ্ল্যাটের ভাড়া অনেকটাই কম। এই শহরে দুই বেডরুম, একটি ডাইনিং এবং একটি রান্নাঘরের (পড়ুন ২বিএইচকে) ফ্ল্যাটে থাকতে হলে প্রতি মাসে গুনতে হয় ১২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা। আবাসনের কতটা কাছে রেল-মেট্রো স্টেশন বা বাস স্টপ রয়েছে, তার উপর ভাড়া অনেকটাই নির্ভর করে।

Advertisement

ভাড়ার ফ্ল্যাটে থাকার আবার বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এর জন্য প্রতি মাসে যে খরচ হয়, তা কখনওই ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য লগ্নি করতে পারেন না ভাড়াটে। উল্টে ওই টাকার পুরোটাই চলে যায় বাড়িওয়ালার পকেটে। দ্বিতীয়ত, বছরশেষে ভাড়া বৃদ্ধি হলে ঘাড়ে চাপে ব্যয়বৃদ্ধির বোঝা, অনেক ক্ষেত্রেই যা বহন করা ভাড়াটেদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে ওঠে।

রিয়্যাল এস্টেট নজরদার সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কলকাতায় ফি বছর ফ্ল্যাট ভাড়ার অঙ্ক ৫-৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। মেট্রো স্টেশন, অফিসপাড়া বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের আশপাশের এলাকার ক্ষেত্রে আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এই সূচক। সেই হিসাবে ১০ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যায় ফ্ল্যাট ভাড়ার পরিমাণ। সেখান থেকে ভাড়াটের কোনও রকম রিটার্ন বা লাভের সুযোগ নেই।

একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। কলকাতার আশপাশের এলাকায় টানা ৩০ বছর কোনও ব্যক্তি ভাড়াবাড়িতে থাকলে সব মিলিয়ে এক কোটি টাকার বেশি খরচ হবে তাঁর। এই পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগে অনায়াসেই ফ্ল্যাট কিনে ফেলতে পারেন তিনি। এর জন্য গৃহঋণ নিয়ে মাসিক কিস্তিতে সেই টাকা শোধ করার সুযোগ পাবেন তিনি।

ফ্ল্যাট কেনার দ্বিতীয় সুবিধা হল সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধি। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে রাজারহাট, নিউ টাউন, বিটি রোড, ইএম বাইপাস এবং বেলগাছিয়ার আবাসনের দাম ৬-১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আপাতত অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement