ই-গভর্ন্যান্সের রূপরেখা দিলেন অমিত

সকলের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির পক্ষে সওয়াল ইনফোকমে

এ বারের থিম ‘কানেক্টেড ওয়ার্ল্ড’ বা প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত বিশ্ব নিয়ে শুরু হয়েছিল ইনফোকম ২০১৫। ব্যাঙ্কিং, টেলিকম থেকে তথ্যপ্রযুক্তি— সব শিল্পের প্রতিনিধিরাই গত দু’দিনের আলোচনায় জানিয়ে দেন, প্রযুক্তির চাকা যত জোরেই ঘুরুক না কেন, দেশের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে সকলের জন্য কম খরচে প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:০৮
Share:

ইনফোকমের মঞ্চে অমিত মিত্র। শনিবার কলকাতায়।-নিজস্ব চিত্র

এ বারের থিম ‘কানেক্টেড ওয়ার্ল্ড’ বা প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত বিশ্ব নিয়ে শুরু হয়েছিল ইনফোকম ২০১৫। ব্যাঙ্কিং, টেলিকম থেকে তথ্যপ্রযুক্তি— সব শিল্পের প্রতিনিধিরাই গত দু’দিনের আলোচনায় জানিয়ে দেন, প্রযুক্তির চাকা যত জোরেই ঘুরুক না কেন, দেশের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে সকলের জন্য কম খরচে প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। আর ইনফোকমের শেষ দিন শনিবারেও উঠে এল উন্নয়নের এই শর্ত — তথ্যপ্রযুক্তির লাভ সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।

Advertisement

পাশাপাশি, রাজ্যের অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র ইনফোকমের মঞ্চ থেকে তুলে ধরলেন রাজ্যে ই-গভর্ন্যান্সের মানচিত্র। তিনি বলেন, ‘‘ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সরকারি সমস্ত পরিষেবা প্রতিটি রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’’ তাঁর দাবি, রাজ্যের তিন হাজারের বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্রডব্যান্ড মারফত নেট যোগাযোগ পৌঁছে দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিষেবার জন্য জরুরি পরিকাঠামো ৭০০০ কিলোমিটার লম্বা অপটিকাল ফাইবার কেব্‌ল পাতার কাজও এগোচ্ছে। প্রসঙ্গত এই পরিষেবা কেন্দ্রীয় ‘ভারত নেট’ প্রকল্পের অন্তর্গত।

‘ভারত নেট’-এর মাধ্যমে দেশের আড়াই লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতে দ্রুতগতিসম্পন্ন নেট সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছে কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার ইনফোকমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বারের ‘থিম’, ‘কানেক্টেড ওয়ার্ল্ড’-এর পক্ষে জোরদার সওয়াল করে এ কথা জানিয়েছিলেন টেলিকম অথরিটি অব ইন্ডিয়া ( ট্রাই) চেয়ারম্যান আর এস শর্মা। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প কার্যকর হলে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা বিনোদনের মতো পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

Advertisement

এ দিন কেন্দ্রের সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অমিতবাবুও জানান, উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে প্রযুক্তিকে পুরোদমে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে রাজ্য। তাঁর দাবি, রাজ্য জুড়ে ৬ হাজারের বেশি তথ্য পরিষেবা কেন্দ্র তৈরি হয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ সরকারি অফিসে অনলাইন মাধ্যমে জমি, বাড়ি রেজিস্ট্রেশন, বিভিন্ন কর জমা দেওয়ার মতো প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘২৪৭টি রেজিস্ট্রেশন অফিসের মধ্যে ২৪৪টি অফিসেই অনলাইনে কাজ সেরে নিতে পারেন নাগরিকরা।’’

নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি ব্যবসা করার সুযোগও ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে দিতে চায় রাজ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্রডব্যান্ড যোগাযোগের পুরোটাই সরকারি কাজে লাগবে না। বাড়তি ব্রডব্যান্ড নিলাম করে কোষাগারে কিছু টাকা আনতে চায় রাজ্য। এবং এই যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে শিল্পোদ্যোগীরা পণ্য ও পরিষেবা বিক্রি করতে পারেন বলে তাঁর দাবি।

এই বাণিজ্যিক প্রস্তাবের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে অমিতবাবু তুলে ধরেন রাজ্যের মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে মোট মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা সাত কোটির বেশি। এবং গ্রামে ২০ শতাংশ মোবাইল গ্রাহকের নেট পরিষেবা রয়েছে। তাঁর দাবি, এই বিশাল বাজার খুলে দিতে সরকার পরিকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছে। তার সুযোগ নিতে চাই নতুন শিল্প ভাবনা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement