প্রতি বছর ৭ জুন ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস’ পালিত হয়। ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার লক্ষ্যে ৭৩/২৫০ নম্বর প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছরের ৭ জুন নিরাপদ খাদ্যের নানাবিধ সুফল উদ্যাপনের দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী খাবারের গুণগত মান সঠিক রাখা এবং খাদ্য-নিরাপত্তা বিষয়ে সকলকে সচেতন করাই এই দিবসের উদেশ্য। সঠিক পরিমাণ এবং নিরাপদ খাদ্যই জীবন রক্ষা এবং সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি। খাদ্যবাহিত অসুস্থতা সাধারণত সংক্রামক বা বিষাক্ত প্রকৃতির হয় এবং প্রায়শই নীরবে শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতিসাধন করে। ব্যাক্টিরিয়া, ভাইরাস বা রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে এটি মানবশরীরে ঢোকে। খাদ্য শৃঙ্খলের প্রতিটি পর্যায়ে— উৎপাদন থেকে শুরু করে ফসল কাটা, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং ব্যবহার— খাদ্যকে জীবাণুমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে খাদ্য-নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দূষিত খাদ্য রোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির এক দুষ্টচক্র তৈরি করে— এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তাঁরাই, যাঁদের সম্পদ, রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ— কোনওটিই নেই। পরিসংখ্যান বলছে, দূষিত খাবার খেয়ে প্রতি বছর বিশ্ব জুড়ে আনুমানিক ৪,২০,০০০ মানুষ মারা যান এবং ৫ বছরের কম বয়সি শিশুরা খাদ্যবাহিত রোগের ৪০% বোঝা বহন করে, যার জেরে প্রতি বছর ১২৫,০০০ শিশুর মৃত্যু হয়।
২০২৬ সালের বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের প্রতিপাদ্য হল ‘ফ্রম বার্ডেন টু সলিউশনস— সেফ ফুড এভরিহোয়্যার’। এটি তুলে ধরে যে, অসুস্থতা, এবং প্রাণহানি সংক্রান্ত তথ্য কী ভাবে সুনির্দিষ্ট ও সাশ্রয়ী সমাধানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ করার দিক-নির্দেশ করতে পারে। সেই সঙ্গে আমাদের ভোলা উচিত নয়, আমরা উপভোক্তা, খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা নীতিনির্ধারক— যা-ই হই না কেন, খাদ্য নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে আমাদের একটি ভূমিকা রয়েছে।
তুষারকান্তি ষণ্ণিগ্রহী, সিমলাপাল, বাঁকুড়া
মেয়েদের স্বার্থে
নারীসমাজের সামগ্রিক অগ্রগতি ও বিকাশের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে বিবিধ নারীকেন্দ্রিক প্রকল্পের সূচনা করেছে। বর্তমানে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখতে পাই বেশ কিছু নারীকেন্দ্রিক প্রকল্প পূর্ববর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার কর্তৃক প্রযুক্ত হয়েছে। যেমন, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, অন্নপূর্ণা ভান্ডার, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রা ইত্যাদি। প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো নারী প্রগতিতে সহায়ক কি না বা আদৌ বাস্তবসম্মত কি না?
কন্যাশ্রী প্রকল্পে সাধারণ ভাবে ১৩-১৯ বছর বয়সের অবিবাহিত পাঠরতা কন্যারা আর্থিক সহায়তা পান। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক আয়ের কোনও শর্তাবলি নেই। এখন কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যে, কন্যাশ্রী প্রকল্পটির উপভোক্তাদের পারিবারিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা না রাখাটা কতটা যুক্তিযুক্ত? কিন্তু বিষয়ের গভীরে গিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে, অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক আর্থিক সঙ্গতির থেকেও পরিবারের পিছিয়ে পড়া মানসিকতা মেয়েটির উচ্চশিক্ষা লাভে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তখন এই আর্থিক সাহায্যই মেয়েটিকে ওই মানসিক বাধা কাটিয়ে তোলার শক্তি জোগাচ্ছে। পারিবারিক আয় বিবেচিত হলে প্রকল্পের পরিধি সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
‘রূপশ্রী’-র ক্ষেত্রে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের কন্যা তাঁর বিবাহের জন্য আর্থিক সহায়তা পান ১৮ বছর বয়স হওয়ার সঙ্গেই। যে সমাজে মেয়েদের অল্প বয়সে বিবাহ দেওয়ার প্রবণতা একটি গভীর ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, সেখানে এই ধরনের প্রকল্প কি মেয়েদের বিবাহকেই জীবনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসাবে নির্ধারিত করে দেয় না? তাই প্রকল্পটি চালানো কতটা বাস্তবসম্মত, ভেবে দেখা দরকার।
এর পর রয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’, যার উপভোক্তা ২৫-৬০ বছর বয়সের সেই সমস্ত মহিলা, যাঁরা কোনও সরকারি চাকরিজীবী নন, পেনশনভোগী নন, অথবা আয়কর সীমার অন্তর্ভুক্ত নন। এ ক্ষেত্রেও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি নিজে চাকরিজীবী না হলেও যদি চাকরিজীবীর গৃহিণী হন, সে ক্ষেত্রে কেন তিনি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন? তিনি তো পারিবারিক ভাবে সচ্ছল। কিন্তু এখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীসমাজের অবস্থার প্রকৃত রূপটিকে আর একটি বার দেখে নেওয়া প্রয়োজন। এক জন নারীর পারিবারিক সচ্ছলতা এবং তাঁর ব্যক্তিজীবনে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কি সব সময়ই সমানুপাতিক? তাই এই প্রকল্পটির ক্ষেত্রে উপভোক্তার সংখ্যা দেখে বিচলিত না হয়ে প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করাই বোধ হয় এক মাত্র বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সর্বশেষ বিষয়টি হল, নব্য গৃহীত প্রকল্প সরকারি বাসগুলিতে মহিলা-যাত্রীদের বিনামূল্যে যাত্রা। উদ্যোগটিকে আন্তরিক সাধুবাদ। নতুন সরকারের প্রচেষ্টায় অবশেষে ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ অষ্টম রাজ্য হিসেবে এই ধরনের প্রকল্পের সুবিধা চালু করেছে। এই ছাড়ের ক্ষেত্রে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিন্তু কন্যাশ্রী বা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের যুক্তি খাটবে না। কারণ, গণপরিবহণে মহিলাদের একটি বড় অংশ চাকরিজীবী নিত্যযাত্রী, যাঁদের এই আর্থিক আনুকূল্যের প্রয়োজন নেই। বরং এ ক্ষেত্রে যে সমস্যা হতে পারে তা হল, চাকরিজীবী নারী সম্প্রদায় সাধারণ পুরুষ সমাজের কাছে অকারণ বিদ্বেষের কারণ হয়ে উঠতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে তেমন উদাহরণ ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে।
নবগঠিত সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা, এবং কাজ করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতাই এখনও পর্যন্ত লক্ষণীয়। তাই উক্ত বিষয়গুলির পুনর্বিবেচনা হবে— আশা করাই যায়।
সপ্তপর্ণা গুড়িয়া, পাঁচবাগা, বাঁকুড়া
রক্তের আকাল
প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের সঙ্কট দেখা দেয়। এই সময় রক্তের প্রয়োজনে বহু রোগীর পরিজনকে একের পর এক ব্লাড ব্যাঙ্কে ঘুরে খালি হাতে ফিরতে হয়। এ বছর বিধানসভা নির্বাচনের কারণে গত প্রায় তিন মাস ধরে ক্লাব, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে না পারায় এই সঙ্কট আরও চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া রোগীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন। ভোটপর্ব শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত সংখ্যায় রক্তদান শিবির না হওয়ায় ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোতে চাহিদার তুলনায় রক্তের অভাব রয়ে গেছে। অবিলম্বে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা বাড়াতে না পারলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই ক্লাব, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন, রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে পর্যাপ্ত রক্তের জোগানে সহযোগিতা করুন।
অপূর্বলাল নস্কর, ডোমজুড়, হাওড়া
শব্দদূষণ
বর্তমানে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের একটা অপরিহার্য অংশ হলেও কখনও কখনও দেখি, এই যন্ত্রটি ব্যক্তি-স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করছে। যেমন, ট্রেনে প্রায়শই সহযাত্রীদের অনেকে মোবাইলে ভিডিয়ো দেখেন। সমস্যা হয় তখনই, যখন এই ভিডিয়োগুলি অত্যন্ত উচ্চস্বরে চালানো হয়। বহু ক্ষেত্রেই ট্রেনের আওয়াজের সঙ্গে এই মোবাইলের উচ্চ আওয়াজ মিলে এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অবাক লাগে, কামরায় উপস্থিত অন্যান্যের অসুবিধা হবে কি না, সে বিষয়ে ধার ধারেন না এঁরা। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বেশ কয়েক বার পাশের যাত্রীকে ভিডিয়োর আওয়াজ কম করতে বলায়, সংশ্লিষ্ট যাত্রী বেশ উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, এই নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এঁদের বোধোদয় কবে হবে?
প্রশান্ত দাস, অনন্তপুর, হুগলি
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে