প্রতীকী চিত্র।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির কাউন্সেলিং এ বার নিজেরাই করাতে চায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এই মর্মে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টাল সেক্রেটারিকে চিঠি দিতে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রবিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসমিতির অনলাইন বৈঠক হয়। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় সব সদস্য সহমত পোষণ করেছেন বলে খবর। তবে জানা গিয়েছে, শুধু মাত্র রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা রাজ্য সরকারের মনোনীত সদস্য গৌতম পাল এর বিরোধিতা করেন। তিনি এই বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “এটি ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। আমরা ইসিতে আলোচনা করি। সেখানে সকল সদস্য সম্মতি জানিয়েছে। এ বার সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে।”
গৌতম পাল বলেন, “আমার এ বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। কাউন্সেলিং ও লিখিত পরীক্ষা পরস্পর জড়িত। ২০১৪ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্জ়ামিনেশন আইনের ২(৮) ধারা অনুযায়ী পরীক্ষা হয়। এই নিয়ম পরিবর্তনের অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। এই সিদ্ধান্ত আইনানুগ নয়।” জয়েন্ট বোর্ড সূত্রের খবর, এই বিধি পরিবর্তন করতে চাইলে বিধানসভায় বিল আনতে হবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল বলেন, “ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরা কাউন্সেলিং করাবে। কর্মসমিতিতে সর্বসম্মত ভাবে সে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই মর্মে আমরা সরকারকে চিঠি দিতে চলেছি।”
গত বছর ওবিসি সংরক্ষণে ফলে ফলপ্রকাশে বিলম্বের কারণে মেধাবী পড়ুয়া হারাতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই। এ বার তাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া নিজেরা করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। যদিও রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড যে ভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে তাতে আপত্তি নেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি কাউন্সেলিং-এর। তারা চাইছে মেধাতালিকা অনুযায়ী কাউন্সেলিং নিজেরা করিয়ে পড়ুয়া ভর্তি নিতে।
নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার পর জয়েন্ট বোর্ড মেধাতালিকা তৈরি করে। তার ভিত্তিতে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভর্তি করা হয়। এই প্রক্রিয়া জয়েন্ট বোর্ড অনলাইনে সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় ভাবে ধাপে ধাপে।
কিন্তু যাদবপুর চাইছে বোর্ড মেধাতালিকা প্রকাশের পর, তারা নিজেরাই কাউন্সেলিং করিয়ে পড়ুয়া ভর্তি নিতে।
গত বছর ওবিসি সংরক্ষণ জটে জয়েন্টের ফলপ্রকাশে বিস্তর বিলম্ব হয়। তার পর জয়েন্ট বোর্ডের মাধ্যমে অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর দেখা যায় অনেক আসন ফাঁকা রয়ে গিয়েছে। রাজ্যের জয়েন্ট-এর প্রথম ১০০-র মধ্যে থাকা কোনও পড়ুয়া যাদবপুরে ভর্তি হয়নি গত বছর। কম্পিউটার সায়েন্স ছাড়া কোনও বিভাগেই প্রথম ২৫০ থাকা কেউ ভর্তি হননি। তা নিয়েই চিন্তিত যাদবপুর কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন যদি যাদবপুর নিজেরা ভর্তি নেয়। তা হলে দীর্ঘ মেয়াদে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ববিদ্যালয় সামগ্রিক র্যাঙ্কিং-এ এবং এনআই আরএফ র্যাঙ্কিং-এ। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তালিকা যাদবপুর পিছিয়ে ছিল তারও উন্নতি হবে।