Women's Studies Course and Career

নারী অধিকার রক্ষা ও লিঙ্গ বৈষম্য রোধের লড়াই-ই হয়ে উঠতে পারে পেশা! পড়তে হবে কোন বিষয়?

গত শতাব্দীর ৭০ বা ৮০-এর দশক থেকে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও আলাদা ভাবে বিষয়টি পড়ানো শুরু হয় একবিংশ শতাব্দীতে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৯
Share:

প্রতীকী চিত্র।

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে লিঙ্গবৈষম্য, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ওঠে এমন অভিযোগ। এই বৈষম্য এবং নারীর অধিকারহরণ প্রসঙ্গে বিস্তর চর্চা হয়। এ সব বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য রয়েছে মানবীবিদ্যা। গত শতাব্দীর ৭০ বা ৮০-এর দশকে আলোচনা হলেও এ দেশে আলাদা বিষয় হিসাবে এটি পড়ানো শুরু হয় একবিংশ শতাব্দীতে।

Advertisement

নারীবাদী আন্দোলনের সূচনা প্রাথমিক ভাবে আমেরিকায়। ভোটাধিকার এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমানাধিকারের দাবিতে সরব হন মহিলারা। আন্দোলনের ঝাঁঝ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ধীরে ধীরে উন্নয়নশীল দেশগুলিতেও আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বঞ্চনার বিরূদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। শুধু আন্দোলনই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় নারীবাদ। মানবীবিদ্যা বা ওয়েমেন্স স্টাডিজ় নামক এক শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হয়, যার মূল উদ্দেশ্য লিঙ্গ বৈষম্যের দিকগুলিকে চিহ্নিত করা এবং নারীর অবস্থান ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

কোন কোন বিষয় পড়ানো হয় মানবীবিদ্যায়?

Advertisement

মানবীবিদ্যার চর্চায় উঠে আসে লিঙ্গ বনাম যৌনপরিচয়ের প্রসঙ্গ। তেমনই নারীবাদের ইতিহাস, নারী ক্ষমতায়ন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, পিতৃতন্ত্র, নারী নির্যাতন, আইন ও মানবাধিকার-সহ নানা বিষয়।

কোন কোর্স করা যায়?

আগ্রহীরা মানবীবিদ্যায় স্নাতক, স্নাতকোত্তরের মতো মূল ধারার কোর্স করতে পারেন। অর্জন করতে পারেন বিএ বা এমএ ডিগ্রি। আবার ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করারও সুযোগ পান। যাঁরা এই বিষয়ে গবেষণা করতে চান, তাঁরা এমফিল বা পিএইচডি কোর্সে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন।

দেশে ও রাজ্যের নামী প্রতিষ্ঠান

১। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়

২। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়

৩। টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস মুম্বই

৪। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়

৫। হায়দরবাদ বিশ্ববিদ্যালয়

৬। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

৭। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

৮। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়

৯। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়

১০। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়

চাকরির সুযোগ—

মানবীবিদ্যা পড়ে অনেকেই উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার পথে পা বাড়ান। বেছে নেন শিক্ষকতা অথবা কাজ করেন বিভিন্ন গবেষণা সংস্থায়। তবে এ ছাড়াও সরকারি নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক, মানবাধিকার কমিশন বা একাধিক সরকারি প্রকল্পে চাকরির সুযোগ থাকে। মানবীবিদ্যার ডিগ্রি নিয়ে ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, অক্সফ্যাম-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে জাতীয় বা রাজ্য স্তরের কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজের সুযোগ মেলে। এ ছাড়া, বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্পোরেট সংস্থার সিএসআর (কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি) প্রকল্পে চাকরির সুযোগ থাকে। পেশা হিসাবে বেছে নেওয়া যায় সাংবাদিকতাকেও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement