প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।
কংগ্রেসের ভোটপ্রচার ঘিরে বহরমপুরে শনিবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল। ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন। শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই তাঁকে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। অধীর বলেন, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে।’’ যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার। তিনি বলেন, ‘‘উনি অতীত। বাইরের লোক এনে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় মানুষ তার প্রতিবাদ করেছেন।’’
অভিযোগ, অধীর তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে প্রচারে বাধা দেওয়া হয়। অধীরকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ধাক্কাধাক্কি হয় দু’দলের সমর্থকদের মধ্যেও। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শনিবার সকালের ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা শনিবার নবগ্রামের পাঁচগ্রাম এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তার জেরে দীর্ঘক্ষণ ওই রাস্তায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। ফলে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। বেশ কিছু ক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকার পর পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বাইরে থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন অধীর। তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব বলেন, ‘‘আমাদের মিছিল যাচ্ছিল, সেই সময় কংগ্রেসের কর্মীরা হামলার চেষ্টা করেন। অধীর চৌধুরী যদি ভাবেন বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে নিজের হারানো মাটি ফেরানোর চেষ্টা করবেন, সেটা ভুল। এলাকার লোকজনই ওঁকে চান না।’’ এই ঘটনায় কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন অধীর চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতেও বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অধীর। তাঁকে দেখে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন তৃণমূলের একদল নেতা-কর্মী। বহরমপুরের আব্দুস সামাদ রোডে ওই ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি নার্সিংহোমে জেলা কংগ্রেসের এক নেতা অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছেন। অধীর তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তাঁকে দেখে তৃণমূলের কর্মীরা ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর আবুল কাউসার জানান, অধীর ওই ওয়ার্ডে এলেই ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেবেন তাঁরা। জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, “তৃণমূল ভোটে তিন নম্বর স্থান পাবে। তা বুঝেই ওঁরা এমন করছেন।”