(বাঁ দিকে) জ্বালা গুট্টা, (ডান ডিকে) নকুল মেহতা ও তাঁর স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত।
মাসকয়েক আগেই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা জ্বালা গুট্টা প্রায় ৩০ লিটার স্তন্যদুগ্ধ দান করেছেন। এ বার সেই তালিকায় নাম লেখালেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা নকুল মেহতার স্ত্রী জানকী পারেখ। তিনি প্রায় ৯০ প্যাকেট স্তন্যদুগ্ধ দান করলেন মিল্ক ব্যাঙ্কে। মূলত এনআইসিইউ-তে থাকা সদ্যোজাতদের জন্য এমন উদ্যোগ নিলেন জানকী।
‘বড়ে অচ্ছে লগতে হ্যায়’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনের আলোচিত তারকা হয়ে ওঠেন নকুল। ২০২১ সালে পুত্রসন্তানের বাবা হন নকুল। ২০২৫ সালে তাঁর ও জানকীর সংসারে আসে কন্যাসন্তান। মেয়ের নাম রেখেছেন রোমি। ছোট্ট রোমির বয়স প্রায় ৯ মাস। এই ন’মাস ধরে নিজের স্তন্যদুগ্ধ জমিয়েছেন জানকী। এতগুলো মাস পরে সেখান থেকেই ৯০ প্যাকেট স্তন্যদুগ্ধ দান করে চোখ ছলছল জানকীর, মুখে চওড়া হাসি। তাঁর কথায়, ‘‘মেয়ের জন্মের সময় থেকেই দিনে একাধিক বার পাম্প করতাম। খুব ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। আর যেন কিছুই ভাল লাগত না। তবুও নিজেকে বোঝাতাম, যা করছি সবটাই সন্তনের জন্য। স্তন্যদুগ্ধ নিষ্কাশন করা, তার পরে প্যাকেটে ভরা, সেগুলো সংরক্ষণ করা— মনে হয়েছিল যদি কখনও আমার সন্তানের প্রয়োজন পড়ে। তবে আমার মেয়ে সরাসরি স্তন থেকে দুধ পান করে। এ ছাড়াও, এখন শক্ত খাবার খেতে শিখেছে ও।’’
এর পরেই তাই জানকীর মনে হয়েছে, এতগুলো মাস ধরে যে দুগ্ধ তিনি জমিয়েছেন, সেটা যদি কোনও শিশুর কাজে লাগে। জানকীর কথায়, ‘‘এই দুধের ব্যাগগুলোয় আমার আবেগ রয়েছে। দান করার দিন ঘন ঘন কেঁদেছি। তবে নিজেকে আশ্বস্ত করেছি, এগুলো যে সব শিশুদের প্রয়োজন, তাদের সত্যিই কাজে লাগবে।’’ একজন নারী হতে পেরে জানকী তাই গর্বিত। নিজের শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উৎপাদন করতে পারার পাশাপাশি, অন্য শিশুদেরও পুষ্টি দিতে পেরে তিনি আপ্লুত।