Joy Banerjee Birthday Special

ছেলের মৃত্যু মা সহ্য করতে পারেন? সকাল থেকে কাঁদছেন অঝোরে: জয়ের জন্মদিনে স্ত্রী অঙ্কিতা

আট বছর সবাই মিলে জন্মদিন পালন করেছেন। এই প্রথম নিজের জন্মদিনে নেই জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর মা সকাল থেকে ছেলেকে মনে করে কাঁদছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৪:৩১
Share:

জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর বাবা এবং স্ত্রী অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

তখন জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে। তাঁর জন্মদিন মানেই প্রচণ্ড হুল্লোড়। বাড়ির সবাই, বন্ধুবান্ধব একজোট। আগের রাতে কেক কাটা, শ্যাম্পেনের বোতল খোলা, ‘সারপ্রাইজ গিফট’—সব মিলিয়ে যেন উৎসবের রাত! ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত স্ত্রী অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এ ভাবেই কেটেছে অভিনেতা-রাজনীতিবিদের প্রত্যেক জন্মদিন।

Advertisement

অনাথ আশ্রমে প্রয়াত জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালন। ছবি: সংগৃহীত।

২০২৬-এ জয় নেই। “এই প্রথম ওকে ছাড়া ওর জন্মদিন”, বিষণ্ণ কণ্ঠে আনন্দবাজার ডট কম-কে বললেন অঙ্কিতা। সন্তানের মৃত্যু কোন মা সহ্য করতে পারেন? প্রয়াত অভিনেতা-রাজনীতিবিদের মা তাই সকাল থেকে কাঁদছেন অঝোরে, জানালেন জয়ের স্ত্রী। জীবিতাস্থায় কারও দুরবস্থার কথা শুনলেই অভিনেতা দু’হাত ভরে তাঁকে সাহায্য করতেন। এ দিন তাই অঙ্কিতা দক্ষিণ কলকাতার এক অনাথ আশ্রমের দেড়শো দুঃস্থ শিশুকে পেট ভরে পোলাও, মাংস, মিষ্টি, পায়েস খাওয়াবেন। হাতে তুলে দেবেন পছন্দসই উপহার।

জয়ও তো খেতে ভালবাসতেন। এই দিন ওঁর জন্য বিশেষ কী রান্না হত? আট বছর আগের দিনগুলোতে ফিরলেন জয়-পত্নী। বললেন, “জন্মদিন মানেই ঘরোয়া খাবার। হয় মায়ের হাতে, নয় আমার হাতের রান্না। তার মধ্যে পায়েস চা-ই ওর।” এ ছাড়া, মাছ-মাংসের এলাহি আয়োজন থাকত। “জয় একদিকে ভীষণ শৌখিন। আবার ছেলেমানুষ। দামি সুগন্ধি পেলেই শিশুর মতো খুশি হয়ে উঠত। আমার ননদ প্রতি বছর মনে করে ওর জন্য বিদেশ থেকে দামি সুগন্ধি নিয়ে আসত। আমরাও ওর পছন্দসই উপহার দিতাম।”

Advertisement

জয়কে স্মরণ করে অনাথ শিশুদের খাওয়ান প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী অঙ্কিতা। ছবি: সংগৃহীত।

২০২৬ রাজ্যরাজনীতির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের সাক্ষী। এ বছর তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে পদ্মশিবির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে। জয় শেষ দিন পর্যন্ত বিজেপি-কে সমর্থন করেছেন। বেঁচে থাকলে এ বছরের জন্মদিনের আনন্দ দ্বিগুণ হত? “ভীষণ খুশি হত”, স্বীকার করলেন অঙ্কিতা। বললেন, “৪ মে-র বিকেল থেকে আমাদের বাড়িতে ফোনের বন্যা। সবাই ফোন করে একটাই কথা বলেছেন, ‘দাদা নিশ্চয়ই উপরে গিয়ে কলকাঠি নেড়েছেন। তাই দল জিতেছে!’ সবাই ওকে মনে করেছেন। বিজেপি সরকার জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোলেনি।” তিনি দাবি করেছেন, জয় সব সময় চাইতেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসন বাংলাতেও চালু হোক। দলকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালবাসতেন বলেই শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফাউন্ডেশনের সদস্য ছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement