(বাঁ দিকে)নীতীশ কুমার, (ডান দিকে) জ়ায়রা ওয়াসিম। ছবি: সংগৃহীত।
‘দঙ্গল’খ্যাত অভিনেত্রী জ়ায়রা ওয়াসীম পর পর দু’টি হিট ছবিতে অভিনয় করেই বলিউডকে বিদায় জানিয়েছিলেন। কারণ হিসাবে বলেছিলেন, তিনি ধর্মে মন দিতে চান। অভিনয় ছেড়েছেন প্রায় পাঁচ বছর হতে চলল। অন্তরালেই থাকেন। কিন্তু বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের কীর্তি দেখে চুপ থাকতে পারলেন না। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কোন দাবি করলেন জ়ায়রা?
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে হিজাব পরিহিত এক মহিলা চিকিৎসককে নিয়োগপত্র দিচ্ছিলেন নীতীশ। সেটি নিতে মঞ্চের সামনে যেতেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন, “এটা কী?” এর পরে তিনি খানিক ঝুঁকে ওই চিকিৎসকের হিজাব টেনে নামিয়ে দিতে উদ্যত হলেন। এর পর থেকেই বিরোধীরা নীতীশের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হয়ে যান ওই মহিলা চিকিৎসক। তাঁকে হাত ধরে মঞ্চ থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। এই কাণ্ডটি চোখের সামনে হতে দেখে নীতীশের হাত ধরে থামানোর চেষ্টা করেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। কিন্তু তত ক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণে ক্ষুব্ধ জ়ায়রা। নীতীশের উচিত নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, দাবি জ়ায়রার।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘একজন মহিলার আত্মসম্মান খেলার পুতুল নয়। অন্তত ভরামঞ্চে এমন জিনিস মেনে নেওয়া যায় না। একজন মুসলিম মহিলা হিসাবে অন্য মুসলিম মহিলার পর্দা এ ভাবে সরিয়ে দেওয়া আর সেই সঙ্গে ওই হাসি দেখলে রাগ হচ্ছে। ক্ষমতা মানেই সীমা উলঙ্ঘন করা যায় না।’’
একা জ়ায়রা নন, এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই সমালোচনায় মুখর হয়েছে আরজেডি ও কংগ্রেসের মতো দলগুলিও। যদিও নীতীশের দল জেডিইউ মুখ্যমন্ত্রীর এমন কার্যকলাপের পক্ষে সাফাই দিয়েছে।