ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট কখন, কী ভাবে খেলে উপকার মিলবে বেশি? ছবি:সংগৃহীত।
ভিটামিন এ, সি, বি কমপ্লেক্স নিয়ে কথা হলেও, ভিটামিন বি-১২ এর অভাব নিয়ে তেমন সচেতনতা দেখা যায় না। জীবদেহে কোষে শক্তি উৎপাদনের নেপথ্যে এই ভিটামিনেরও ভূমিকা রয়েছে।
শরীর সুস্থ রাখতে এই ভিটামিনটি স্বল্পমাত্রায় প্রয়োজন হলেও, অত্যন্ত জরুরি। শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি তৈরি হলে অ্যানিমিয়া, ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ভিটামিন চুল, নখ ও ত্বক ভাল রাখে, হাড়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে সাহায্য করে। তবে নিরামিষ খাবারে এই ভিটামিনের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। প্রাণিজ খাবারে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে মেলে ভিটামিন বি ১২।
ফলে ডায়েটের গোলমাল হলে বা নিরামিষ খাবার খেলে ভিটামিনটির অভাব হতে পারে। অভাব পূরণে ভরসা সাপ্লিমেন্ট। তবে তা যদি ভুল ভাবে খাওয়া হয়, তা হলেও কিন্তু ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে ফাঁক রয়ে যেতে পারে। ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্টে নিলে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?
ভিটামিন বি১২ জলে দ্রবণীয় ভিটামিন। ফলে জল দিয়ে সাপ্লিমেন্ট খেলেই ভিটামিন দ্রুত গুলে যাবে এবং শরীরে মিশবে।
কোন ভুল এড়াবেন
ভিটামিন বি১২ খাওয়ার সময়ে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলাই ভাল। কারণ, ভিটামিন বি১২ শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভিটামিন সি।
আধ ঘণ্টা কফি নয়
সকালে সাপ্লিমেন্ট নিলে আধ ঘণ্টার জন্য কফি খাওয়া চলবে না। কারণ কফি বা গরম পানীয়ে পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরি হতে পারে। তার ফলে ভিটামিন বি১২ শোষণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দুধ নয়
দুধ বা উচ্চ মাত্রায় ক্যালশিয়াম রয়েছে এমন খাবারের সঙ্গে সাপ্লিমেন্ট না খাওয়াই ভাল। কারণ, ক্যালশিয়ামের মাত্রা বেশি হলে, তা সাপ্লিমেন্ট শোষণে বাধা হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে বা পরে দুধ বা দই জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভাল।
সাপ্লিমেন্ট কিন্তু ইচ্ছামতো খাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরেই তা খাওয়া উচিত।