সারা বছর ঠোঁট ফাটলে সাবধান, হতে পারে কিছু রোগের লক্ষণ। ছবি: ফ্রিপিক।
ঠোঁট ফাটার সমস্যা অনেকেরই থাকে। আবহাওয়া পরিবর্তন বা জলশূন্যতার কারণে সাময়িক ভাবে ঠোঁট ফাটলে তাকে সাধারণত কোনও রোগ বলা যায় না। কিন্তু যদি সারা বছর ধরে ঠোঁট ফাটে, ক্রিম বা লিপ বাম মেখেও সমস্যার সমাধান না হয়, তা হলে চিন্তার কারণ আছে। ঠোঁট ফাটা বা ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়, কাইলাইটিস। এটিকে শারীরিক কোনও সমস্যার পূর্বলক্ষণের বলা যেতে পারে।
ক্রনিক ঠোঁট ফাটার সমস্যা কী কী কারণে হতে পারে?
অপুষ্টি বা ভিটামিনের অভাব
ভিটামিনের অভাব হলে সে কারণে ঠোঁট ফাটার সমস্যা শুরু হতে পারে। ভিটামিন বি৩, বি৬ ও বি১২ ভিটামিনের অভাবে ঠোঁট ফাটে সবচেয়ে বেশি। তা ছাড়া, জ়িঙ্ক ও আয়রনের অভাবেও ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়।
থাইরয়েডের সমস্যা
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হলে ত্বক ও ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করার পরেও যদি ঠোঁট ফাটা না কমে, তবে তা থাইরয়েডের লক্ষণ হতে পারে।
ডায়াবিটিস
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে, শরীর থেকে জল বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলে জলশূন্যতা দেখা দেয় মুখের ভিতর ও ঠোঁট শুকিয়ে যায়। এ ছাড়া ডায়াবিটিস থাকলে মুখগহ্বরের ভিতরে ছত্রাকের সংক্রমণও হতে দেখা যায়, ফলে ঠোঁটের কোণ শুকিয়ে যায়, ঠোঁটের চামড়া ফেটে রক্ত বার হতে পারে।
হজমের সমস্যা
ক্রনিক অম্বল, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে শরীরে ভিটামিন ও খনিজের শোষণ ঠিকমতো হয় না। অপুষ্টির কারণে তথন ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। মাঝেমধ্যেই যদি ঠোঁট ফেটে রক্ত বার হতে থাকে, তা হলে সেটি অন্ত্রের রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ঠোঁটের কোণে যদি ঘা বা পুঁজ হয় তা হলে সতর্ক হতে হবে।
যদি ঠোঁটের চামড়া মোটা হয়ে যায় ও তাতে সাদাটে ছোপ দেখা দেয়, তা হলে দেরি করা ঠিক হবে না।
প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরেও যদি ঠোঁট ও মুখগহ্বর শুকিয়ে যেতে থাকে, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।