How to find the right partner

খেতে খেতে আড্ডা দেওয়া যায় যাঁর সঙ্গে, সঙ্গী হিসাবে তিনিই হতে পারেন আদর্শ, কেন বলছেন রুজুতা

ডেটিং-এর সময় কোন বিষয়গুলি দেখলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? পুষ্টিবিদ বলছেন, খাওয়ার সময়েই বোঝা যায় সেই কথা। কী ভাবে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২২
Share:

সম্পর্কে থাকা অন্য মানুষটি উপযুক্ত কি না, কী ভাবে বুঝবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বলিউডে তিনি পরিচিত করিনা কপূরের পু্ষ্টিবিদ হিসাবে। বি-টাউনের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী ফিট থাকতে তাঁর পরামর্শ মেনে চলেন। সেই রুজুতা দিবেকর সম্প্রতি ‘কলকাতা লিটারারি মিট’-এ এসে ডেটিং সংক্রান্ত পরামর্শ দিলেন। রুজুতা বলছেন, ‘‘যাঁর সঙ্গে নিশ্চিন্তে বসে খাওয়া যায়, খেতে খেতে গল্প করা যায়, তিনিই হতে পারেন সঠিক ব্যক্তি।’’

Advertisement

পুষ্টিবিদের এমন কথা শুনে অনেকেরই ভ্রু কুঞ্চিত হতে পারে। খাওয়ার সঙ্গে ডেটিং বা প্রেমের সম্পর্ক কী? আসলে পু্ষ্টিবিদের কথার মধ্যেই নিহিত বিশেষ অর্থ। যে মানুষের সঙ্গে সহজ ভাবে মেশা যায়, আত্মসম্মান বজায় থাকে দুই পক্ষের, সেই মানুষটি হতে পারেন আদর্শ। সামনে বসে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন, তা দিয়ে যদি অন্য পক্ষ বিচার করতে বসেন বা খোলা মনে তাঁর সঙ্গে গল্প করা না যায়, তা হলে বুঝতে হবে উল্টো দিকের মানুষটির সঙ্গে জীবনে পথচলা সহজ হবে না।

সম্পর্কে খানিক ত্যাগস্বীকার থাকতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি অন্যের সুখ, খুশির কথা ভাবতে গিয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে ফেলেন, নিছের পছন্দ ভুলতে বসেন, তবে তা আদৌ কি সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ হতে পারে? রুজুতার কথায়, কারও ত্যাগস্বীকারকে অন্য পক্ষ কী ভাবে দেখছেন, তা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের ইচ্ছা বা কথাই যদি চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায়, তা হলে বুঝতে হবে অন্যের আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে।

Advertisement

রুজুতা যা বলছেন, সম্পর্ক বা উপযুক্ত সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তা মাথায় রাখা কতটা জরুরি? মনোবিদেরা বলছেন সম্পর্কে কোন বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ।

ভারসাম্য: সম্পর্কে ভারসাম্য থাকা জরুরি। এক পক্ষ শুধু অন্যের কথামতো কাজ করবেন, নিজেকে উজাড় করে দিয়ে যাবেন, অন্য পক্ষ তা ক্রমাগত নিয়েই যাবেন, তেমনটা হলে সমস্যা। দু’জনের মধ্যে চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

আত্মমর্যাদা: অনেকেই প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয়ে বা তাঁকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের ইচ্ছার অমর্যাদা করে ফেলেন। অনেক সময় অন্যের মতকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজের খুশি ভুলতে বসেন। আত্মসম্মান খুইয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন। তাতে সুখ মেলে না।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য: সম্পর্কে থাকলেও ব্যক্তিস্বাধীনতার ক্ষেত্রে সীমারেখা থাকা উচিত। মনোরোগ চিকিৎসক শর্মিলা সরকার বলছেন, ‘‘সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাস-ভরসার উপরে। একে অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানালে সম্পর্ক আরও মজবুত হতে পারে। বরং কারও মনে যদি প্রশ্ন তৈরি হয়, তা হলে একে অন্যের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলাই ভাল।’’

ভুল সম্পর্ক কী ভাবে মনের উপর আঘাত হানে

কোনও সম্পর্কে শুধু এক জনের মতই গ্রহণযোগ্য হলে, অন্য মানুষটি শারীরিক এবং মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েবনই। ক্রমাগত সঙ্গীকে খুশি রাখার দায়-দায়িত্ব কোনও এক পক্ষের হতে পারে না। এমনটা হলে সেই মানুষটি মানসিক চাপ, অবসাদের সম্মুখীন হতে পারেন।

কখন বুঝতে হবে, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা ভাল?

সম্পর্কে থেকেও দিনের পর দিন ভাল না থাকলে, তা নিয়ে দু’বার ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। মনোবিদেরা জানাচ্ছেন, সম্পর্কে সমস্যা হলে তার পুনর্মূল্যায়ন দরকার। দু’জন মানুষ একে অন্যের উপর কতটা শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নির্ভরশীল, তাঁরা কী চাইছেন, তা বোঝা খুব জরুরি। সমস্যার সমাধানে ‘কাপল থেরাপি’ করা যেতে পারে। যদি দেখা যায়, কেউ তাঁর অবস্থান থেকে সরবেন না, দু’পক্ষের কেউই সম্পর্কে আর ভাল থাকছেন না, তখন বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।

ভাল থাকার গোপন কথা

· একে অন্যকে সম্মান করতে হবে, মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

· গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার সকলের আছে, তা যুগলের মধ্যেও থাকা স্বাভাবিক। তাই সন্দেহের বশে একে অন্যের পরিসরে ঢুকে না পড়ে, কথা বলা যেতে পারে।

· খোলাখুলি কথা বলা, সময় কাটানো সম্পর্ককে মজবুত করতে পারে।

· সম্পর্কে টিঁকে থাকে বিশ্বাস, ভরসা, আস্থার উপরে। সেই ভাবনাকে দু’পক্ষেরই সম্মান করা প্রয়োজন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement