সকালের জলখাবার হোক বা ছোটদের টিফিন, সুজি দিয়ে কী কী বানাতে পারেন? ছবি: ফ্রিপিক।
ওজন বেশি হলে সকালের জলখাবারে কী খাবেন তা নিয়ে চিন্তা থাকেই। ওট্স বা ডালিয়ার খিচুরি একঘেয়ে লাগলে আবার লুচি বা পরোটায় ফিরে যাবেন না যেন। স্বাস্থ্যকর অথচ সুস্বাদু জলখাবার খাওয়ার ইচ্ছা হলে ময়দার বিকল্প হতে পারে সুজি। এতে ফাইবার প্রচুর পরিমাণে থাকে। এর সঙ্গেই থাকে আয়রন, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। সুজি খেলে অনেক ক্ষণ পেট ভর্তি থাকে, ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছাও হয় না। তাই প্রাতরাশে হোক বা ছোটদের টিফিনে, স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে সুজি রাখা যেতেই পারে।
প্রচুর পরিমাণে চিনি বা গুড় দিয়ে সুজি বানালে কিন্তু হবে না। ওজন যদি কমাতে হয়, তা হলে সুজি দিয়ে নানা রকম খাবার তৈরি করতে হবে স্বাস্থ্যকর উপায়ে। কয়েকটি পদ্ধতি রইল।
সব্জি দিয়ে সুজির উপমা
আধ কাপের মতো সুজি নিলে, সব্জি নিতে হবে তার অনেক বেশি। গাজর, বিন, ফুলকপি, কড়াইশুঁটি, ক্যাপসিকাম ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এ বার সুজি শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিন। কড়াইতে সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে তাতে সর্ষে, কারিপাতা ও চিনাবাদাম দিয়ে ভেজে নিন। এ বার সমস্ত সব্জি দিয়ে অল্প নুন দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। সব্জি ভাজা হলে অল্প জল দিন। জল ফুটতে শুরু করলে তাতে ভেজে রাখা সুজি অল্প অল্প করে মিশিয়ে দিন। জল শুকিয়ে সুজি ঝরঝরে হয়ে এলে লেবুর রস ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
সুজি ও দইয়ের প্যানকেক
একটি পাত্রে সুজি আর দই ভাল করে মিশিয়ে ১৫ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। পালংশাক, পেঁয়াজ, আদা, লঙ্কা কুচিয়ে রাখুন। এর পর সুজি ও দইয়ের মিশ্রণে সব সব্জি ও একটি ডিম মিশিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে নিন। মিশ্রণে সামান্য জোয়ান ও নুন মেশান। ব্যাটার যেন খুব পাতলা না হয়। প্যানে সামান্য তেল দিয়ে মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্যানকেকের আকারে ভেজে নিন। এর সঙ্গে দইয়ের রায়তা বা পুদিনার চাটনি দিয়ে খেতে পারেন।
ওজন কমানোর জন্য প্রাতরাশে রাখতে পারেন সুজি। ছবি: ফ্রিপিক।
সুজির ইডলি
এক কাপ সুজির সঙ্গে আধ কাপ টক দই মিশিয়ে ২০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এ বার তাতে গাজর ও আদা কুচি মিশিয়ে সামান্য জল দিয়ে ফেটিয়ে নিন। এতে ইনো বা এক চিমটে খাবার সোডা মিশিয়ে আরও কিছু ক্ষণ ঢেকে রাখুন। ইডলি মেকারে বা ছোট বাটিতে সামান্য তেল মাখিয়ে মিশ্রণটি ঢেলে ১০-১২ মিনিট ভাপে রান্না করুন। নারকেলের চাটনি বা ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে খেতে ভাল লাগবে।