খুশি কপূর কোন সমস্যায় ভুগছেন, যা কিছুতেই তাঁর পিছু ছাড়ে না?
‘আর্চিজ়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পদার্পণ। অভিনয় জগতে এখনও তেমন নাম না করলেও, তারকা-কন্যা খুশি কপূর বিভিন্ন সময়েই থাকেন চর্চায়। সম্প্রতি, শ্রীদেবীর কন্যা খুশি জানালেন তাঁর এক দীর্ঘ শারীরিক সমস্যার কথা। তবে মজার ছলে। এমন কী আছে, যা তাঁকে ছেড়ে যায়নি বা তাঁর জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে যুক্ত? এমনই এক প্রশ্নের উত্তরে খুশি জানান, ‘আইবিএস’।
আইবিএস হল ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, যে সমস্যায় আক্রান্ত কমবেশি অনেকেই। ক্রমাগত পেটফাঁপা, অস্বস্তি, হজমের সমস্যা এই অসুখের অন্যতম উপসর্গ। কোনও জটিল অসুখ না হলেও তা ঘুরে–ফিরে আসে বলে নাজেহাল হতে হয় যে কোনও সময়ে। কোথায়, কখন পেট গুড়গুড় করবে বা পেটব্যথা হবে কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটখারাপ হবে, তা কেউ জানে না৷ আবার কখন হঠাৎ সব ঠিক হয়ে যাবে, তা-ও বোঝা মুশকিল৷
আইবিএস-এর নানা ধরন
আইবিএস সি: এই সমস্যায় মলত্যাগ খুব কষ্টকর হয়। মল সাধারণত শক্ত হয়ে থাকে। পেট পরিষ্কার হতে চায় না, বদহজম হতে থাকে।
আইবিএস ডি: এই ধরনের সমস্যায় ডায়েরিয়া বা আন্ত্রিক হয়। খাওয়ার পরেই দ্রুত মলত্যাগের প্রয়োজন অনুভূত হয় এবং পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা হতে পারে।
আইবিএস এম: আইবিএসের এই ধরনের সমস্যায় কয়েক দিনের ব্যবধানে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আন্ত্রিক— দু'ধরনের সমস্যাই দেখা দেয়।
কেন হয় এই সমস্যা?
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অন্ত্রের পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে খাবারকে নীচের দিকে ঠেলে দেয়। সঙ্কোচন ধীরে হলে বা স্বাভাবিক ছন্দ বজায় না থাকলে খাবার অন্ত্রের ভিতর দিয়ে খুব আস্তে আস্তে যায়। খাবার দীর্ঘ ক্ষণ অন্ত্রে থাকলে বাড়তি জলের দরকার পড়ে। পরিমাণ মতো জল না পেলে মল শক্ত হয়ে যায়। তা ছাড়া, পেটের সঙ্গে স্নায়ুরও যোগ থাকে। পেট ফুলে থাকলে অনেক সময় স্নায়ু সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। একই সঙ্গে চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ থেকেও অম্বল, গ্যাস, বদহজমের মতো সমস্যা বাড়ে।
সমাধান কী
ওষুধপত্রে রোগ বশে থাকলেও পুরোপুরি সারে না৷ তবে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণে থাকলে সমস্যা অনেকেটাই আয়ত্তে রাখা যায়।
১। সারা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া জরুরি। খেতে হবে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার, যেমন টক দই, ইয়োগার্ট, কিমচি।
২। সয়াবিন, কাঠবাদাম, পালং, তিল— এগুলি খাবারে জুড়লে শরীর যথেষ্ট ক্যালশিয়াম পাবে। এগুলি পেটের জন্যও ভাল।
৩। টাটকা শাকসব্জি, ফাইবার যুক্ত ফল খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার।
৪। অনেকেরই দুধের ল্যাক্টোজ় নামক শর্করা হজমে সমস্যা হয়, তাঁরা দুধ বা দুধ দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে যেতে পারেন।
একই সঙ্গে বাদ দিতে হবে মদ, অতিরক্ত ভাজাভুজি, চিনি জাতীয় খাবার এবং পানীয়। গম, পেঁয়াজ, রসুন, দুধ, লেবু জাতীয় ফল, লিচু, , মিষ্টি খাবার যেমন মধু, লো-ক্যালোরি সুইটনার৷ এই সব খাবারের কারও কারও সমস্যা হতে পারে। প্রাণয়াম, যোগব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমবে, যা আইবিএস নিয়ন্ত্রণে সহজ হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকেরা বলছেন, পেটের সমস্যা হলে দোকানে গিয়ে নিজের মতো ওষুধ কেনার প্রবণতা ক্ষতিকর।