কী ভাবে এতটা রোগা হলেন নিতিন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
খ্যাতনামীদের ওজন কমানোর গল্পগুলি প্রায়শই চটজলদি সমাধান, কঠোর খাদ্যাভ্যাস বা নাটকীয় পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরীর ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভাবেই নির্ভর করেছে তাঁর কড়া রুটিন এবং শৃঙ্খলার উপর। সম্প্রতি পরিচালক ফরাহ খানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিতিন ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর ওজন কমানোর অভিজ্ঞতার কথা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, কোভিডের পরে তিনি ৪৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। আগে ১৩৫ কেজি ওজন ছিল তাঁঁর। এখন তাঁর ওজন কমে ৮৯ কেজিতে নেমে এসেছে। নিতিনের মতে, কেবল বাহ্যিক রূপ নয়, তাঁর শারীরিক সুস্থতার জন্যও এই পরিবর্তন জরুরি ছিল। তিনি জানান, কাজের পিছনে ছুটে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বছরের পর বছর ধরে যে অবহেলা করেছেন তিনি, তা নিয়ে তাঁকে ভাবতে বাধ্য করেছিল কোভিড। নীতিন বলেন, ‘‘কোভিডের আগে আমার জীবনটা ছিল খুবই অপরিকল্পিত ও বিশৃঙ্খল। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ব্যায়াম করাটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে আমার কাছে। এখন আমি প্রতি দিন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করি।”
কোভিডের সময় নিতিন বেশ কয়েক জন কাছের বন্ধুকে হারিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘‘যে বন্ধুদের সঙ্গে আমি ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করতাম, তাঁরা অনেকেই অতিমারিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তখন আমার মনে হল, আমাকে বদলাতে হবে।’’ কোভিডের সময়টাকে জীবনের সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন মন্ত্রী, যা তাঁর প্রাত্যহিক যাপন ও দৃষ্টিভঙ্গিকে স্থায়ী ভাবে বদলে দিয়েছে।
নিতিনের জীবনের এই বড় পরিবর্তনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি কোনও বড়সড় দাবি করেননি। কোনও জাদু ডায়েট যা চটজলদি ফল দেবে, এমন কিছুতে তিনি বিশ্বাস রাখেননি। তিনি স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া করেছেন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে। এ ছাড়া একজন প্রশিক্ষকের নজরদারিতে তিনি প্রাণায়াম, স্ট্রেচিং, শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘‘লোকে আমাকে বলে যে, আমি দিন দিন আরও তরুণ হয়ে যাচ্ছি। এটা আমি যে প্রাণায়াম ও ব্যায়াম করি, তারই ফল।”