ঘুম আসবে সহজ আসনে, বিছানায় শুয়েই করুন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বিছানায় শুয়ে ঘুম আসে না। শরীর ক্লান্ত, কিন্তু দু’চোখের পাতা এক হয় না। এই সমস্যা আর এক-আধজনের সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই। অসুখের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। অনিদ্রা এখন বয়সকালের রোগ নয়, কম বয়সেরও দুর্ভোগ। সমীক্ষা এমনই বলছে। ভারতীয়দের চোখে ঘুম নেই। ৪৬ শতাংশই ভুগছেন কম ঘুম বা অনিদ্রার রোগে। এর কারণ অনেক, তবে সমাধানের উপায় খুব কম। ঘুমের সমস্যা ওষুধে নিরাময় হয় না। তার জন্য জীবনধারায় বদল দরকার। যেমন, সঠিক সময়ে খাওয়া, রোজ একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া, ঘুমের অন্তত ঘণ্টাদুয়েক আগে মোবাইল-ট্যাব থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি। ক’জন এমন অভ্যাস মেনে চলতে পারবেন। তা হলে কী করণীয়?
যোগাসন হতে পারে সহজ পন্থা। মাটিতে ম্যাট পেতে বিশাল আয়োজন করে ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে, বিছানায় শুয়ে বালিশে মাথা রাখার আগেই ঝটপট কিছু সহজ আসন করে নেওয়া যায়। বেশি পরিশ্রম নেই, পদ্ধতিও কঠিন নয়। যেটুকু সময় মোবাইলে স্ক্রল করে কাটান, সেই সময়টা যদি তিন থেকে চারটি আসনও করে ফেলতে পারেন, তা হলে ঘুমোনোর জন্য আর ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
সুপ্ত তাড়াসন
শুরুটা হোক এই আসন দিয়ে। টানটান হয়ে শুয়ে পড়ুন। চিত হয়ে শুতে হবে। দুই পা টানটান থাকবে। দুই হাত মাথার পিছনে সোজা করে ছড়িয়ে দিন। দুই হাতের আঙুলগুলি পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে রাখুন। এই ভাবে মিনিট পাঁচেক থাকলেই, সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন সঠিক ভাবে হবে, ব্যথাবদনা কমবে, ক্লান্তি কাটবে, ঘুম আসবে সহজে।
অপনাসন
চিত হয়ে শুতে হবে। শ্বাস নিতে নিতে দুই হাঁটু ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসুন। হাত দিয়ে হাঁটু জড়িয়ে ধরুন। দুই হাঁটু আলতো করে বুকের কাছে চেপে ধরতে হবে। ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থানে ফিরে যান। গ্যাস-অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে আসনটি উপযোগী। রোজ করলে মানসিক চাপও কমবে।
সুপ্ত মৎস্যেন্দ্রাসন
প্রথমে শবাসনে শুয়ে পড়ুন, হাত দু’পাশে টানটান থাকবে। ডান হাঁটু ভেঙে, বাঁ হাত দিয়ে ডান হাঁটুকে ধরতে হবে। এ বার ওই ভাবেই ডান হাঁটু আপনার বাঁ দিকে নিয়ে যান। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। এই ভঙ্গিমায় ১ থেকে ১০ গুনে আগের অবস্থায় ফিরে যান। অন্য পায়েও করুন আসনটি।
পশ্চিমোত্তাসন
প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে দু’ হাত তুলে মাথার দু’ পাশে উপরের দিকে রাখুন। ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয়ে জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন। দুই পায়ের মাঝে কপাল ঠেকান। দুই পা টানটান থাকবে, হাঁটু ভাঁজ হবে না। শরীর ঝোঁকানোর সময়ে খেয়াল রাখবেন, বুক ও পেট যেন ঊরুতে স্পর্শ করে থাকে। এই অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।