কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শের সমস্যা নির্মূল হবে যোগাসনের এক বিশেষ পদ্ধতিতে। চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কষ্ট বলে বোঝানোর নয়। যিনি ভুক্তভোগী, তিনিই জানেন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে খাবার মেপে খেতে হয়, তেলমশলা দেওয়া খাবার একেবারে ছেঁটে ফেলতে হয়। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যত বেশি খাওয়া যাবে, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া ততই সহজ হবে। সেই সঙ্গে বেশি করে জল খাওয়ারও পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে ওষুধ খেয়ে হোক বা ঘরোয়া টোটকা মেনে চলা, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই কঠিন। সে সঙ্গে অর্শের সমস্যা দেখা দিলে তা আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। কেবল ওষুধ খেয়ে এ সমস্যার সুরাহা হয় না। এর জন্য প্রয়োজন যোগাসনের সঠিক পদ্ধতি।
পাশাসান বা ‘নুজ় পোজ়’ অষ্টাঙ্গ যোগের এমন এক পদ্ধতি, যা নিয়মিত অভ্যাস করলে কোষ্ঠকাঠিন্য তো বটেই, গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও নির্মূল হতে পারে।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে ম্যাটের উপর হাঁটু মুড়ে, অর্থাৎ উবু হয়ে বসুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) বাঁ হাতের বাহুমূল নিয়ে যান ডান হাঁটুর কাছাকাছি। এমন ভাবে রাখতে হবে যেন হাতের সঙ্গে হাঁটু আটকে থাকে।
৩) সেই ভঙ্গিতে থেকেই শরীরের উপরিভাগ মোচড় দিয়ে বাঁ দিকে ঘোরাতে হবে। ডান হাতটি কোমরের পিছন দিয়ে ঘুরিয়ে বাঁ হাতের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
৪) দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখতে পারলে ভাল হয়।
৫) এই অবস্থান ধরে রাখার সময়ে মাটি থেকে গোড়ালি ধীরে ধীরে তোলার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ পায়ের আঙুলের উপর গোটা শরীরের ভার রাখতে হবে।
৬) এই অবস্থানে থাকুন ৩০ সেকেন্ড। তার পর আবার প্রথম অবস্থানে ফিরে আসুন।
উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।
অর্শের সমস্যা থাকলে তা দূর হবে।
শুধু ঘাড়-কাঁধ -পিঠ নয়, এই আসন অভ্যাসে সারা শরীরের পেশিই সক্রিয় হবে।
পেটের মেদ কমবে, অতিরিক্ত ওজন ঝরবে।
পিঠ-কোমরের ব্যথা থাকলে তা কমে যাবে।
গ্যাস-অম্বল, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমে যাবে।
কারা করবেন না?
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে এই আসন করবেন না।
হার্নিয়ার সমস্যা থাকলে আসনটি করা যাবে না।