শিবের উপাসনা করে জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
ভোলেবাবাকে তুষ্ট করতে বিশেষ কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। তিনি অল্পেই তুষ্ট হন। কেবল
মন দিয়ে ডাকলেই হবে। এরই সঙ্গে শিবের পুজো করতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে। হিন্দু ধর্মে
শিবলিঙ্গে জল ঢালার চল রয়েছে। শিবের অভিষেক করা মহাদেবের পুজোর এক গুরুত্বপূর্ণ
অংশ। শিবলিঙ্গের নীচের অংশ জলধারী নামে পরিচিত। কারণ, শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালার
পর সেখান থেকে জল বাইরে বেরিয়ে যায়। তাই সেই অংশকে জলধারী বলা হয়। শাস্ত্রমতে,
জলধারীর তাৎপর্য অপরিসীম। এই অংশ শিবলিঙ্গকে ধারণ করে। যাঁরা শিবের পুজো করেন,
তাঁরা প্রত্যেকেই মনোমতো জিনিস দিয়ে শিবের অভিষেক করেন। তবে সঠিক নিয়ম মেনে
হাতেগোনা কয়েক জনই এই কাজ করে থাকেন। সেই কারণে সম্পূর্ণ ফলপ্রাপ্তিও হয় না। শিবের
মাথায় জল ঢালার সঠিক নিয়মগুলি জেনে নিন।
শিবের মাথায় জল ঢালার সঠিক নিয়ম কী?
- বহু মানুষই দাঁড়িয়ে শিবের মাথায় জল ঢালেন। তবে শাস্ত্র
জানাচ্ছে এই কাজ করা মোটেও উচিত নয়। পূর্ব দিকে মুখ করে, দাঁড়িয়ে শিবলিঙ্গের
অভিষেক করা যাবে না। সব সময় উত্তর দিকে মুখ করে হাঁটু মুড়ে বসে শিবলিঙ্গের মাথায়
জল ঢালতে হবে।
- জল বা দুধ, যা-ই ঢালুন না কেন তা পুরোটা একবারে শিবলিঙ্গের
মাথায় ঢেলে দেওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে ঢালতে হবে, যাতে
জলধারী সেই জল বা দুধ অল্প সময়ের জন্য হলেও ধারণ করে রাখতে পারে। শিবের গা থেকে আস্তে
আস্তে জল বা দুধ বেয়ে পড়বে, এটাই শিবের অভিষেক করার আসল নিয়ম।
- স্টিলের পাত্র দিয়ে শিবের অভিষেক করা উচিত নয়। তামা, পিতল
বা রুপোর তৈরি ঘট দিয়ে শিবের মাথায় জল ঢালতে হবে। জল ঢালার সময় শিবের প্রণাম মন্ত্র
অবশ্যই উচ্চারণ করতে হবে।
- শিবের অভিষেক হয়ে যাওয়ার পর সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে হবে।
তার পর মনস্কামনা জানিয়ে শিবের পুজো সম্পন্ন করুন। জল ঢালার আগেই বা প্রণাম না
করেই মনোবাসনা জানালে চলবে না। এতে মহাদেব রুষ্ট হতে পারেন।