ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সিঁদুর হল হিন্দু নারীদের বিয়ের চিহ্ন। হিন্দুশাস্ত্রে সিঁদুরের গুরুত্ব অপার। সিঁদুর ব্যতীত হিন্দুদের বিয়ে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মন্দির থেকে বাড়ি, সর্বত্র সিঁদুর ব্যবহারের গুরুত্ব রয়েছে। অনেকে লাল রঙের সিঁদুর পরে বিয়ে করেন, অনেকে কমলা। যে রঙেরই সিঁদুর পরা হোক না কেন, শাস্ত্রমতে তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সিঁদুর সুখী দাম্পত্যের প্রতীক। স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা কামনায় সধবা মহিলাদের প্রতি দিন সিঁদুর পরা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। ভিন্ন আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরার পৃথক পৃথক বিশেষত্ব রয়েছে। কোন আঙুলে সিঁদুর পরলে কী হয়, জেনে নিন।
কোন আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরলে কী হয়?
তর্জনী: তর্জনীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বৃহস্পতির। শাস্ত্রমতে, এই আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরলে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া ভাল হয়। আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গ পাওয়া যায়। তবে প্রচলিত বিশ্বাস মতে, এই আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরলে দম্ভ বৃদ্ধি পায়।
মধ্যমা: মধ্যমার সঙ্গে শনির সম্পর্ক রয়েছে। এই আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরা যেতে পারে বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতি সম্মান থাকতে দেখা যায়। সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়। কেবল স্ত্রী নয়, স্বামীরও তাঁর অর্ধাঙ্গিনীর প্রতি কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি পায়।
অনামিকা: সূর্যের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অনামিকার। এই আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরলে সংসারে সুখশান্তি বজায় থাকে। স্বামীর পেশাজীবনে উন্নতি লাভে সুবিধা হয় বলে মনে করা হয়। অনেকেই মনে করেন যে এই আঙুল সিঁদুর পরার জন্য উপযুক্ত নয়। তবে এ ধারণা ঠিক নয় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
কনিষ্ঠা: কনিষ্ঠার প্রতিনিধিত্ব করে বুধ গ্রহ। সিঁদুর পরার ক্ষেত্রে এই আঙুলটিকে সাধারণত ব্রাত্য বলেই ধরা হয়। কনিষ্ঠা দিয়ে সাধারণত কাউকে সিঁদুর পরতে দেখা যায় না। তবে এই আঙুল দিয়ে যে সিঁদুর পরা অনুচিত এমন কোনও নিদান শাস্ত্রে দেওয়া নেই। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনের ভাব আদান-প্রদানে কোনও সমস্যা হতে দেখা যায় না। যে কোনও বিষয় নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা যায়।
বৃদ্ধাঙ্গুলি: বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে সাধারণত সিঁদুর পরার চল নেই হিন্দুশাস্ত্রে। বিশেষ কারণ ছাড়া নিত্য দিনের ক্ষেত্রে এই আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরা এড়িয়ে চলাই উচিত হবে বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।