Griha Pravesh Rituals on Akshaya Tritiya

অক্ষয় তৃতীয়ায় গৃহপ্রবেশ করবেন? কী কী নিয়ম মেনে চললে নতুন বাড়িতে সর্বদা সুখ-শান্তি বজায় থাকবে জেনে নিন

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান করলে তার ফল অত্যন্ত পবিত্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। অক্ষয় তৃতীয়ায় বাড়িতে প্রবেশ করলে মা লক্ষ্মী আশীর্বাদ করেন এবং বাড়িতে সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি এবং সমৃদ্ধির বর্ষণ হয়।

Advertisement

বাক্‌সিদ্ধা গার্গী

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৯
Share:

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)

হিন্দুমতে বিশ্বাস করা হয়, অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে কোনও শুভ কাজ করলে তার শুভ ফল দীর্ঘস্থায়ী হয় বা দীর্ঘকাল ধরে প্রাপ্ত হয়। বাংলা বছরের বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথি শুভ অক্ষয় তৃতীয়া তিথি হিসাবে পালন করা হয়। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে নতুন বাড়ি তৈরির পর অনেকেই গৃহপ্রবেশের জন্য অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ তিথিকেই বেছে নেন। এই বছর অক্ষয় তৃতীয়া রবিবার, ১৯ এপ্রিল। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান করলে তার ফল অত্যন্ত পবিত্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। অক্ষয় তৃতীয়ায় বাড়িতে প্রবেশ করলে মা লক্ষ্মী আশীর্বাদ করেন এবং বাড়িতে সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি এবং সমৃদ্ধির বর্ষণ হয়। অক্ষয় তৃতীয়ায় নতুন বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে যে বাস্তু নিয়মগুলি মেনে চলা উচিত, সেগুলি নীচে আলোচনা করা হল—

Advertisement

শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ

আপনার রাশি এবং নক্ষত্র অনুযায়ী, পঞ্জিকা দেখে শুভ মাহেন্দ্রক্ষণ নির্দিষ্ট করে নেওয়া ভাল। সাধারণত, সূর্যোদয়ের পর থেকে দুপুরের মধ্যেই গৃহপ্রবেশের পূজা সম্পন্ন করা শ্রেষ্ঠ।

Advertisement

গণেশপূজা

যে কোনও শুভ কাজের শুরুতে বিঘ্নহর্তা গণেশের পুজো দেওয়া আবশ্যিক। গৃহপ্রবেশের আগে দরজার সামনে গণেশের মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।

Advertisement

লক্ষ্মী-নারায়ণ পূজা

অক্ষয় তৃতীয়ায় গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান করলে লক্ষ্মী-নারায়ণের পুজো করা প্রয়োজন। পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য মা লক্ষ্মী এবং ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ আরাধনা করা উচিত।

লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি স্থাপন

গৃহপ্রবেশের পূজার সময় রুপোর ছোট লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি স্থাপন করুন। রুপো পবিত্রতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক। লক্ষ্মী ধন ও সমৃদ্ধির দেবী এবং গণেশ বিপদনাশকারী। উভয়ের একযোগে প্রতিষ্ঠার ফলে বাড়িতে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সমস্ত বাধা দূর হয়। লাল কাপড়ে সেই মূর্তি রাখুন এবং প্রতি দিন প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করুন।

গৃহসজ্জা এবং প্রবেশবিধি

  • মূল দরজা হল ঘরের শক্তির প্রবেশদ্বার। সদর দরজায় টাটকা আমপাতা এবং গাঁদা ফুলের তোরণ লাগান। এর ফলে ইতিবাচক শক্তি প্রবাহিত হয়।
  • নতুন ঘরে প্রবেশ করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোনও পুরুষ ঘরে আগে না প্রবেশ করেন। নতুন ঘরে প্রথমে কোনও মহিলার প্রবেশ করা শুভ। আপনার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে কোনও মহিলা সদস্য হতে পারেন, যেমন- মা, বোন, স্ত্রী। গৃহপ্রবেশের সময় তাঁকে অবশ্যই নারকেল, কাঁচা দুধ, গুড়, চাল এবং হলুদ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করতে হবে।
  • একটি তামার কলসিতে জল ভরে তাতে আম্রপল্লব এবং ডাব রেখে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন। গৃহকর্তা এবং গৃহকর্ত্রীকে সেই মঙ্গলকলস হাতে নিয়ে ডান পা আগে ফেলে ঘরে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশকালে শঙ্খ বাজানো এবং উলুধ্বনি দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
  • ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করতে এবং গ্রহদোষ খণ্ডন করতে অভিজ্ঞ পুরোহিত দিয়ে বাস্তুপূজা এবং নবগ্রহ হোম করানো জরুরি।
  • পুজোর সময় পুরো বাড়িতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রতিটি ঘর এবং মূল পূজাস্থলে ঘি অথবা কর্পূরের প্রদীপ দেখান। প্রদীপ দেখানোর ফলে ঘরের প্রতিটি কোণে ঐশ্বরিক আলো এবং ইতিবাচক শক্তি সঞ্চারিত হয়। তা ছাড়া রান্নাঘরে প্রদীপ দেখানো খাদ্য ও শস্যের সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ ভাবে শুভ।
  • ঘরে প্রবেশের পর প্রথমেই রান্নাঘরে দুধ ফুটিয়ে নিন বা ক্ষীর-হালুয়ার মতো মিষ্টি খাবার তৈরি করুন। এই উপচার বাড়িতে সমৃদ্ধি এবং সুখ নিয়ে আসে।
  • গৃহপ্রবেশের রাতে ঘর অন্ধকার রাখবেন না। অন্তত একটি প্রদীপ বা আলো সারা রাত জ্বালিয়ে রাখুন।
  • বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে (অগ্নিকোণ) কর্পূর পোড়াতে পারেন যা পরিবেশ শুদ্ধ করে।
  • গৃহপ্রবেশের পর অন্তত তিন দিন বাড়িতে আমিষ রান্না না করাই ভাল। বাড়ি যেন কখনওই সম্পূর্ণ খালি না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement